বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করলো ‘মঙ্গল আলোয় ফাউন্ডেশন’

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:১৩

দুপুর ২টা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর সলিমুল্লাহ রোডের বায়তুর রহমান জামে মসজিদের সামনের দু’ধারে সারিবদ্ধ হয়ে বসেছেন প্রায় ১৫০-২০০ মানুষ। তারা দুপুরের খাবার খেতে এসেছেন সেখানে। এই সড়কেই তারা গত ২ বছর যাবৎ প্রতি শুক্রবার দুপুরে খাবার খেয়ে আসছেন। কখনো খিচুরি বা বিরিয়ানি, কখনো আবার তেহারি কিংবা সাদাভাত-তরকারী। 

খাবার খেতে আসা রিকশাচালক আলিমুর রহমান বলেন, অনেকদিন ধরে এই জায়গায় খাবার খাই। তাই আইজও খাইতে আসছি। এই লাইনে আলিমুর রহমানের মতো আরও আছেন ছোট-বড়, শিশু, নারী-পুরুষ অনেকে। তারা সবাই করোনা মহামারীর আগে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু করোনাকালে তারা এতোটা অসহায় ব্যবস্থায় পড়েছেন যে, এখন তাদের এই খাবারের জন্যে অপেক্ষা করতে হয়। 

দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করলো ‘মঙ্গল আলোয় ফাউন্ডেশন’

তাদের একজন ফাতেমা বেগম বলেন, স্বামী রাজমিস্ত্রীর কাম করত, উপর থেকে পড়ে গিয়া এখন অসুস্থ, বিছানায় পড়া। ছোটবাচ্চা নিয়ে আমারেও কেউ কামে নেয় না। ফাতেমার মতো আরও আছে ছোট, বড়, প্রতিবন্ধী শিশু। তাদের চোখেমুখে খুশীর ঝিলিক। কারণ তারা আজ ভালো খাবার খেতে পাবেন। 

এই মানবিক কাজের উদ্যোক্তা ‘মঙ্গল আলোয় ফাউন্ডেশন’র প্রতিষ্ঠাতা নার্গিস সুলতানা। তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে এই খাবার তদারকি করছিলেন। খাবার বিতরণ শেষে জানান, মহতি এই উদ্যোগের পেছনের গল্পটা- বলেন, ২০২০ সালে ৮মার্চ, দেশে যেদিন প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়, এরপরই চিন্তাটা মাথায় আসে। ২৬ মার্চে আমরা কয়েকজন সমমনা বন্ধুমিলে ‘মঙ্গল আলোয় ফাউন্ডেশন’র যাত্রা শুরু করি। প্রথম ১০০ মধ্যবিত্তকে সহায়তার মাধ্যমে এই কাজ শুরু করি। আমরা একমাসের বাজার একটা কার্টুনে ভরে আগে থেকে লিস্ট করা অভাবগ্রস্ত পরিবারের দরজার সামনে রেখে কলিং বেল চেপে চলে আসতাম। শুধু আমাদের লোগো থাকতো কার্টুনের উপর। আমরা তাদের সঙ্গে দেখা করতাম না, কারণ তারা যদি অস্বস্থি বোধ করেন। কারণ এই মানুষগুলো অভাবে থাকলেও কারো কাছে চাইতে পারবে না ফলে, তাদের সাহায্যটা জরুরী ছিল। 

সেই থেকে আজ ২০২২ সাল, এখন পর্যন্ত আমরা আমাদের কাজ বন্ধ করি নি। মনে হয়, এই মানুষগুলো খাবারেরে আশায় থাকে। তাই কষ্ট হলেও চালিয়ে যাচ্ছি। লকডাউনে আমরা প্রতিদিন খাওয়াতাম। গতবছর শেষ লক ডাউনেও আমরা টানা ১৯ দিন খাইয়েছি। বর্তমানে প্রতি শুক্রবার দুপুরে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষের খাবার ব্যবস্থা করে থাকি। এখানে আমার পরিচিতজন, বন্ধু ও কিছু মহৎ ব্যক্তির আর্থিক সহায়তায় আমরা এই মঙ্গলআলো ফাউন্ডেশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তারা প্রায় ১০০জন। 

নার্গিস সুলতানা বলেন, আমরা মোহাম্মদপুর ৩০জন বস্তির শিশুকে কোরআন শিক্ষা দিচ্ছি। ‘স্বাবলম্বীই প্রজেক্ট’ নামে ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করে তাদের কর্মসংস্থানে নিয়ে আসতে চাচ্ছি। ছোট ছোট ব্যবসা করে দিয়ে। আমাদের আর একটা উদ্যোগ আছে পরিকল্পনায়। ১২ থেকে ১৪ বছরের কিছু মেয়ে আছে, যারা আগে ভিক্ষা করতো। জানতে পারি, বস্তির কিছু মেয়ে পালাক্রমে ৫ থেকে ৭ দিনের জন্য নিয়ে যেত ভিক্ষা করতে। এভাবে ভিক্ষা করতে গিয়ে অনেক মেয়ে পাচারে শিকার হয়। এই বিষয়টা জানার পর আমার একটা আগ্রহ জাগলো বিষয়টা জানার। বস্তিতে গিয়ে দেখি, একেকটা পরিবারে ৫/৭ জন সদস্য। তারা ঠিকমত খেতে পাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কিছুই অভিভাবকরা দিতে পারছে না। তখন আর তারা ভালো-মন্দ বিষয় না জেনেই ছেলে-মেয়েদের অনুমতি দিয়ে দেয়, ‘যাও রোজগার করে এনে খাও’। এভাবেই অনেক মেয়ে ৫/৭ দিনের জন্যে পরিবারের বাইরে গিয়ে থাকছে। বাইরে থাকতে গিয়ে কিছু মেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভবতী হয়ে পড়ছে, কিছু উঠতিবয়সি মেয়ে পাচারে শিকার হচ্ছে। আমি এই মেয়েদের নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছি। ওই মেয়েদের অভিভাবকদের সাথে কথা হয়েছে, একটি রুম ভাড়া করে একটা ট্রেনিং সেন্টার করে দিতে চাই। যেখানে ওই মেয়েরা কাজ করবে। পিরোজপুর মঠবাড়িয়া আমার গ্রামের বাড়ি। সেখানে আমার বাবা ৩ বারের কমিশনার। ছোটবেলা থেকে বাবাকে দেখে দেখেই এসব কাজ আমার শেখা। বাবা গরীব অসহায় মানুষদের সাহায্য করতেন বলে জানান নার্গিস সুলতানা। তিনি বর্তমানে থাকেন রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে। বেশকটা স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ জাতিসংঘের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। 

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চাকরির পেছনে না ছুটে শরিফা এখন উদ্যোক্তা

‘আমি বেঁচে থাকি সন্ধ্যামাখা জলের গন্ধে’ শীর্ষক আবৃত্তিসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত 

দেশীয় মালিকানাধীন তামাক শিল্প রক্ষায় আইন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি

নুরের বিরুদ্ধে থানায় ছাত্রলীগের অভিযোগ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আড়াই মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্রী, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা 

রাজধানীতে এবার বসছে ১৯টি পশুর হাট

বিশেষ সংবাদ

জলাবদ্ধতা ঠেকাতে রাজধানীর ১৭৮ স্থানে সংস্কার শুরু

তেঁতুলতলা মাঠের ওপর এখনো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি: রিজওয়ানা হাসান