বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথাযথ দায়িত্ব পালন

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:৩৯

দেশব্যাপী কয়েক ধাপে স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন হইবার পথে। এই নির্বাচনে আমরা মাত্রাতিরিক্ত নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, আইন হাতে তুলিয়া লইবার প্রবণতা দেখিতে পাইয়াছি। ইহার সহিত চিরাচরিত ভোটকেন্দ্রের সহিংসতা তো ছিলই। ইহাও লক্ষ করা গিয়াছে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদ্রোহী প্রার্থী বা দল হইতে বহিষ্কৃতরাই এই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটাইয়াছেন। ভাবিতে হইবে, এই সাহসের নেপথ্যে কী কাজ করিয়াছে বা করিতেছে। এই রকম পরিস্থিতিতে যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারে, তাহা হইলে পরিস্থিতি অচিরেই শান্ত হইয়া যাওয়ার কথা; কিন্তু তাহা হইতেছে না। ইহাতে প্রতীয়মান হয় যে, তাহারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করিতে পারিতেছে না। এই না পারার কারণ মোটেই অস্পষ্ট নহে। যাহারা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় লিপ্ত হইতেছেন তাহারা উভয়েই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সহিত জড়িত।

একজন নমিনেশন না পাইলেও তাহার গায়ে দলীয় সিল রহিয়াছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় অ্যাকশনে যাইতে পারিতেছে না। দেখা যাইতেছে, যেই সকল ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী এবং ক্ষমতাসীন দলের নহে এমন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়াছেন, সেই সকল ক্ষেত্রে কিন্তু সহিংসতার অবকাশ নাই। এইরকম ক্ষেত্রে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে পুলিশ প্রশাসন ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিতেছে। সরকারের পক্ষ হইতে আইন প্রয়োগে জিরো টলারেন্সের কথা বারবার বলা হইয়াছে। উহা দলমতনির্বিশেষে; কিন্তু প্রশ্ন হইল, মাঠ পর্যায়ে বর্তমান পরিস্থিতি কি সরকারের দায়িত্বশীলরা দেখিতে পাইতেছেন না? বিষয়টি লইয়া কি তাহারা চিন্তা করিতেছেন না? যদি সরকারের নিকট এইরকম নিশ্চয়তা থাকে যে, অচিরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হইয়া যাইবে, তাহা হইলে আমাদের কোনো কথা নাই। আমরাও নিশ্চিন্ত হইব, আমাদেরও আনন্দের সীমা থাকিবে না। তথাপি আমাদের পরামর্শ থাকিবে, ইহাকে গুরুত্বের সহিত এখনই দেখা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কাজে থাকিবে, তাহাদের অন্যভাবে ব্যবহার করিতে গেলেই বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।

প্রসঙ্গত, এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কথা উঠিয়া আসে। যেই সকল জেলা-উপজেলা বসবাসের অনুপযুক্ত হইয়া পড়িয়াছে, তাহার অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বাহিনী যথেষ্ট সফলতা দেখাইয়াছে। অনেক স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করিয়া তুলিয়াছে; কিন্তু দুই-চারিটি জায়গায় র‌্যাব তাহাদের নিয়মকানুনের বাহিরে গিয়া, ব্যক্তিবিশেষের প্রয়োজনে অথবা নিজেদের প্রয়োজনে কিছু কিছু কাজ করিয়াছে, যাহা এই বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ণ হইতে সহায়তা করিয়াছে। এখন দেশে-বিদেশে এই বাহিনী লইয়া নানাবিধ অভিযোগ ছড়াইয়া পড়িয়াছে। আমরা জানি, কাউকে দিয়া একটি অন্যায় চরিতার্থ করা হইলে তাহাকে অন্য আরো ১০টি অন্যায় করিবার সুযোগ দিতে হয়। অথবা তাহার অন্যায়ের জবাব চাহিবার সুযোগ বা নৈতিক সাহস থাকে না। সুতরাং এখনো সময় আছে, এই বাহিনীকে তাহাদের যথাযথ পেশা ও দায়িত্বে নিয়োজিত রাখিতে হইবে। রাজনীতিতে যেন এই বাহিনীকে কেহ ব্যবহার করিতে না পারে সেই দিকে কঠোর দৃষ্টি রাখিতে হইবে। বাংলাদেশ একটি ছোট্ট দেশ। তাহার উপর ইন্টারনেট ও সিটিজেন জার্নালিজমের যুগ।

এখন কোনো একটি জায়গায় পিন পড়িলেও তাহার শব্দ সকলের কানে পৌঁছাইয়া যায়। অতএব যাহারা হয়রানি করিতেছে, বিভিন্ন বাহিনীকে অপব্যবহারের প্রয়াস পাইতেছে তাহাদের অচিরে ফিরাইতে হইবে। তাহা না হইলে, চোখ খুলিয়া না তাকাইলে আত্মঘাতী হইবে। যাহাদের উপর চড়াও হইতেছে তাহারা একসময় উঠিয়া দাঁড়াইলে তখন আর কিছু করিবার থাকিবে না। সুতরাং আমাদের সুপরামর্শ হইল, পুলিশ প্রশাসন হউক, এলিট ফোর্স হউক—সকলকে যার যার যথাযথ দায়িত্ব পালনে সহায়তা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হইবে।

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নজর রাখিতে হইবে চারিদিকে

শৃঙ্খলাই প্রথম ও উন্নতির সোপান

সামনের দিনগুলির দিকে দৃষ্টি দিতে হইবে

পরিমিতি বচনই শ্রেয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরাইতে আর কী উপায়?

বাড়াবাড়ি নহে, জানিতে হইবে নিজের সীমাবদ্ধতা

যোগ্যতাই সুযোগ আনিয়া দেয়