শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তীব্র শীতে কাহিল কাজিপুরের মানুষ

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৩৩

দেশের উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের মানুষের জীবন যাত্রা। ৪ দিনভর উপজেলাজুড়ে বইছে হিমেল হাওয়া। যার ফলে খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপাকে পরেছে। শিশু-বৃদ্ধরা শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। 

শীত বৃদ্ধির সাথে সাথে বাজারে নতুন এবং পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানে বেড়েছে মানুষের ভিড়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসে ঘন কুয়াশা। তিন দিনে কাজিপুরে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈতপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিন শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাওয়ায় জনসাধারণের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা। শীতবস্ত্র সংকটে হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশায় সকালে কৃষকরা বোরো ধান চাষে, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন সবজিখেতের জমিতে পরিচর্যা করতে যেতে পারছেন না। যার জন্য পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজি পরিচর্যার অভাবে জমিতে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় দিন পার করছেন তারা। 
শীত থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পোশাক কিনছেন নিম্নআয়ের মানুষ। গরম কাপড় কেনা-বেচা হচ্ছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। শিমুলদাইর কম্বল পল্লী এলাকায় শীতবস্ত্রের বিক্রেতারা বেশি বসেছে। সারাদিনই দোকানে ক্রেতার ভিড় লেগেই থাকছে। কাপড়ের দোকানে গরম কাপড়ের সরবরাহ বাড়ছে। দোকানগুলো এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে। ফুটপাতের দোকানগুলোতে শীতের কাপড় কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ। 

দোকানদার সোহেল জানান, প্রতি বছরই আমি এখানে শীতের মৌসুমে গরম কাপড়ের দোকান দিয়ে থাকি। গত বছরের চেয়ে এবার বিক্রি তুলনামূলকভাবে একটু বেশি হচ্ছে। সিমান্তবাজারে ফুটপাতের কাপড়ে ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ছে। 

কাজিপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজের স্কুলছাত্র সোহেল রানা ও রুবেল সরকার বলেন, কয়েক দিন ধরে উপজেলাজুড়ে শীত পড়ছে বেশি। শীত ও কুয়াশার কারণে ভোগান্তি বেড়েছে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের। সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে।

কাজিপুর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শীতে শিশু-বৃদ্ধরা বেশি ভুগছে। তারা নিউমোনিয়া ও জ্বর, সর্দি কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২৩ দিনে প্রায় শতাধিক ঠাণ্ডাজনিত রোগী শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। 

হাসপাতালের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনা পারভীন পারুল জানান, শীতজনিত কারণে রোগীর ভর্তি হচ্ছে। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, শীতের তীব্রতার সাথে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। সরকারিভাবে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। 

ইত্তেফাক/এমএএম 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিদ্যালয়ের সামনে গাছের গুঁড়ি, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি 

ভালো ফলনে খুশি সিরাজগঞ্জের পাট চাষিরা 

বিশেষ সংবাদ

দুই মাসে গো-খাদ্যের দাম দ্বিগুণ বাড়ায় বিপাকে খামারি

সিরাজগঞ্জে সড়কে প্রাণ গেলো ৫ জনের

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সিরাজগঞ্জে বাস চাপায় প্রাণ গেলো কলেজ ছাত্রের

বেড়েছে ঘুঘু পাখি 

সিরাজগঞ্জে বাঁধ ভেঙ্গে ডুবে গেলো ৫শ বিঘা জমির ধান   

শাহজাদপুরে যমুনায় বিলীন বসতবাড়ি