শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যশোরে সংক্রমণ ‘হাই পিকে’, স্বাস্থ্য বিভাগের ‘না’ 

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:০৭

সীমান্তের রেড জোন যশোর জেলা করোনা সংক্রমনের ‘হাই পিকে’ পৌঁছে গেছে বলে দাবি করেছেন অণুজীববিজ্ঞানীরা। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ এটি মানতে নারাজ। দেশের সর্ববৃহত্ স্থলবন্দর বেনাপোল সংক্রমণের গতিকে সর্বোচ্চ মাত্রায় নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনাক্তের হার বাড়তে বাড়তে সোমবার তা ৫১ দশমিক ৪৫ শতাংশে উঠেছে। রবিবার এ হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আক্রান্তদের ৮৫ দশমিক ৩৬ শতাংশই ওমিক্রন বলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যানডম জিনোম সিকোয়েন্সে দেখা গেছে। তবে সংক্রমণ বাড়লেও জটিলতা এবং মৃতু্যর বিবেচনায় করোনা সেভাবে আগ্রাসি রূপে দেখা দেয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল ভ্যারিয়েন্টের ওমিক্রন আর ভ্যাকসিনের সুফলে পরিস্থিতি এখনো আয়ত্তের বাইরে যায়নি। তবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অনীহা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতায় এটা কোন দিকে মোড় নেয়, তা বলার সময় এখনই আসেনি।

সিভিল সার্জন কার‌্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৩৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৯৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে ২৩৭ জনের মধ্যে ১২৪ জনের এবং র‌্যাপিড অ্যান্টিজেনে ১৪২ জনের মধ্যে ৭১ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এই পরিমাণ মোট নমুনার ৫১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এর আগের দিন ৪০৬ জনের মধ্যে ১৯৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়, যা শতাংশ বিবেচনায় ৪৭ দশমিক ৭৮।

যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারের গবেষণায় করোনার পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য বা হোল জিনোম সিকোয়েন্সে ৪১ জনের নমুনায় ৩৫ জনেরই ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। অর্থাত্ নমুনার ৮৫ দশমিক ৩৬ শতাংশই ওমিক্রন। বাকি ছয়টি ডেলটা ধরন বলে শনাক্ত করা হয়। এদিকে ডেলটা আর ওমিক্রন মিলিয়ে ডেলটাক্রন নামের নতুন আরেক ধরন চিহ্নিত হয়েছে স্পেনে। বাংলাদেশে নতুন এই ধরনের কোনো আলামত আছে কি না, সেটার গবেষণা চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ। যবিপ্রবি উপাচার্য ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক রাতদিন ২৪ ঘণ্টা জিনোম সেন্টারে করোনা শনাক্তসহ জিনোম সিকোয়েন্সের নতুন নতুন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ ইত্তেফাককে বলেন, আরএনএ ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যই হলো এর ধরনে পরিবর্তন হবেই। এর মূল প্রথমে যেটা ছিল, সেটা কয়েক বার পরিবর্তিত হয়েছে। পরিবর্তিত ভ্যারিয়েন্ট ডেলটা পর্যন্ত শক্তিশালী ছিল। অন্যান্য ভেরিয়েন্টের চেয়ে ওমক্রিন চার গুণ বেশি সংক্রমণের ক্ষমতা রাখে এবং সেটা সে করছেও। যারা ভ্যাকসিন নেয়নি, সেদিকেই ছড়ানোর হার বেশি। ওমিক্রন সেদিকে যাচ্ছেও। ঢাকা সিটিতে ওমিক্রন ৬৯ শতাংশ হলেও যশোরে তা ৯০ শতাংশের বেশি বলে তিনি অভিমত দেন। কেন এখানে বেশি—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা ভারতে থেকে এসেছেন বা ভারতফেরতদের সান্নিধ্যে ছিলেন তাদের মধ্যেই ওমিক্রনের মাত্রা দেখা যাচ্ছে বেশি। শুধু বেনাপোল না, সব স্থলবন্দর এলাকাই করোনার জন্য হটস্পট; যোগ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, হাই পিকে যাওয়ার পর আমরা আগে যেরকম গুরুতর অসুস্থতা দেখেছি এবার সেটা হয়নি। এটি দুর্বল শক্তির ওমিক্রন আর ভ্যাকসিনের সুফল বলে এই অণুজীববিজ্ঞানী মনে করেন।

অণুজীববিজ্ঞানীরা করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বর্তমান সময়কে হাই পিক বললেও তা মানতে নারাজ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, এটা ঠিক। তবে নমুনা বিবেচনায় জেলার জনসংখ্যার অনুপাতে এটা কত শতাংশ যে হাই পিক বলব! তবে তিনি স্বীকার করেন যে, অক্রান্তদের অনেকেই ভয়ে কিংবা ১৪ দিন ঘরে থাকার বাধ্যবাধকতার কারণে উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা করাচ্ছে না। তিনি বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত ৬১ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে এটা শত ভাগে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি দাবি করেন। তবে জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, এটা ৭০ শতাংশ করার চেষ্টা চলছে। আর হাই পিকে গেছে কি না, সেটা বিজ্ঞানীরাই বলতে পারবেন। তবে মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে আমাদের দিক থেকে তত্পরতা বাড়ানো হবে।

 

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে করোনার নতুন সংক্রমণ নেই

রামেক হাসপাতালে করোনায় ৪ জনের মৃত্যু

করোনায় চট্টগ্রামে ৫৭৪ জন আক্রান্ত

করোনায় চট্টগ্রামে ৫৩৯ জন আক্রান্ত

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত ৫৪৯, মৃত্যু ১

ময়মনসিংহ মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে আরও ৫ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রামে কমছে করোনা সংক্রমণ

মমেকের করোনা ওয়ার্ডে ৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১৪