শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বরেন্দ্র অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় রবিশস্য চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:১৩

রাজশাহীর তানোর উপজেলার গৌরাঙ্গাপুর গ্রামের প্রায় ৩০০ একর ভূমির বেশির ভাগই বন্ধুর (কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু)। অনেকটা ঢেউয়ের মতো। গ্রাম জুড়ে শোভা পাচ্ছে সবুজ রবিশস্য। কেউ পেঁয়াজ, রসুন, কেউ গম, সরিষা, মসুর, ছোলার আবাদ করেছেন।

শুধু তানোর উপজেলার পাঁচন্দর, কলমা, তালান্দ, সরঞ্জাই ও চান্দুরিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে যতদূর চোখ যায়, দেখা মেলে আলুর আবাদ। বরিশস্যর এমন সবুজ চিত্র শুধু তানোর উপজেলা আর রাজশাহী জেলায় নয়, গোটা রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলের লাখ লাখ হেক্টর জমির চলতি মৌসুমের দৃশ্য। বোরোর আবাদ ফেলে এ অঞ্চলের কৃষকেরা এখন আবাদ করেছেন রবিশস্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলে এক দশকের বেশি সময় ধরে ভূ-গর্ভস্থ পানির অবাধ ব্যবহারের ফলে পানিরস্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে এই অঞ্চলের কৃষিতে আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন ধানসহ অধিক সেচনির্ভর চাষ কমেছে। অপরদিকে কম সেচনির্ভর কৃষি আবাদ বিশেষ করে গম, ছোলা, আলু, মসুর, পেঁয়াজসহ অন্য রবিশস্যের চাষ বেড়েছে। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, রাজশাহী জেলায় বর্তমানে রবিশস্য আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ১ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে গতবছর রবিশস্য চাষাবাদ হয়েছিল ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৫৮ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে রবিশস্য বেড়ে চাষাবাদ হচ্ছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৪৫৮ হেক্টর জমিতে।

সূত্র মতে, গত বছর রাজশাহীতে আলু আবাদ হয়েছিল ৩৮ হাজর ৩২৫ হেক্টর জমিতে, চলতি বছর ৫ হাজার হেক্টর বেড়ে আলু আবাদ হয়েছে ৪৩ হাজার ৪৮১ হেক্টর জমিতে। মিষ্টি আলু ২৬৯ হেক্টর থেকে বেড়ে চলতি বছর আবাদ হচ্ছে ৩১২ হেক্টর জমিতে। ভুট্টা ১ হাজার ৫৮৭ হেক্টর থেকে বেড়ে আবাদ বেড়ে হচ্ছে ২ হাজার ৪৭৮ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও শীতকালিন বিভিন্ন সবজি আবাদ হচ্ছে ১২ হাজার ৮৪৪ হেক্টর, ছোলা ১ হাজার ১২৮, মসুর ২৫ হাজার ২৯৬ হেক্টর, চীনা বাদাম ৬০৬ হেক্টর, সরিষা ১৯ হাজার ৪৯৬ হেক্টর, মুগ ডাল ১৫ হেক্টর, খেসারির ডাল ৫০৮ হেক্টর, মটর ২০৬ হেক্টর, পেঁয়াজ ৭ হাজার ৩০ হেক্টর, রসুন ৩ হাজার ৫৪৬ হেক্টর, আখ ৬ হাজার ৪৪৩ হেক্টর জমিতে। তবে চলতি বছর রাজশাহীতে গমের আবাদ কমেছে। গত বছর গমের আবাদ হয়েছিল ২৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। এবার আবাদ ৩ হাজার হেক্টর কমে ২৬ হাজার ৮৪১ হেক্টর জমিতে হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ রোগবালাই এবং সেচ।

জেলার তানোর উপজেলা পাঁচন্দর গ্রামের গভীর নলকূপের অপারেটর মাসুদ রানা বলেন, পাঁচ বছর আগে তার গভীর নলকূপের আওতায় বোরো চাষ হয়েছিল ১৮০ বিঘা। রবিশস্য গম, সরিষা, পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল ৬০ বিঘা। কিন্তু চলতি বছর তার গভীর নলকূপে পানি কম ওঠায় বোরো চাষ হবে ৫০ বিঘায়। তবে গম, সরিষার আবাদ হয়েছে ২৫০ বিঘা জমিতে। অপারেটর মাসুদ রানা আরো জানান, এক দশক আগে এই অঞ্চলে শুধু সেচনির্ভর বোরো ধানের আবাদ হতো। কিন্তু এখন বোরো ধানের আবাদ কমেছে। সেচনির্ভরতা কমাতে মানুষ অন্যান্য ফসলের আবাদে ঝুঁকছেন। এ বিষয়ে তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শমসের আলী বলেন, তানোরসহ বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে পুরো ভূ-গর্ভস্হ পানির স্তর আশঙ্কাজনকহারে নিচে নেমে যাচ্ছে। পানি উত্তোলনে নানা সমস্যায় চাষিরা কম সেচের আবাদে ঝুঁকছেন। রবিশস্যে সেচের নির্ভরতা ও খরচ কম এবং মুনাফা বেশি হওয়ায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন। 

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা 

যে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক সবাই কৃষক

বাগমারায় শ্রমিক সংকট বেড়েই চলেছে

কামারখন্দে চরাঞ্চলে বাড়ছে ফসল চাষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রাজশাহীর ‘সেলিব্রেটি গ্যালারি’ যেন খ্যাতনামাদের মিলনমেলা

বিশেষ সংবাদ

তালায় রকমেলন চাষ, লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা

বঙ্গবন্ধু টানেল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান

শিশুদের যক্ষ্মা নির্মূলে সচেতনতামূলক পুতুল নাটক