ফ্ল্যাটে নারীসহ আটক, ছাড়া পেলেন সেই ওসি

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:১১

রাজশাহীর একটি ফ্ল্যাটের দরজা দুই ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চন্দ্রিমা থানার সাবেক ওসি মাহবুব আলমকে এক নারীসহ উদ্ধার করে থানায় নেয় পুলিশ। সাবেক ওসি ওই নারীকে তার স্ত্রী বলে দাবি করলেও এ দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি।

এদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নামে এক নারী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তার দাবি, মাহবুব আলম তার ষষ্ঠ স্বামী।

তবে আন্নি আক্তার কোনো অভিযোগ না করায় দুপুরের দিকে সাবেক ওসি মাহবুব আলমকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছিলেন আন্নি। তবে পরে অভিযোগ করেননি। চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী আন্নি আখতার অভিযোগ না করায় এবং কারো আপত্তি না থাকায় ওসি মাহবুব আলমকে আটক করা হয়নি।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, তিনি ঘটনাটি জেনেছেন। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ।

তিনি বলেন, মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়া। সেখানে তার মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও এক নারী অবস্থান করছিলেন।

‎ওই নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে মাহবুব আলম দাবি করেন, ওই নারী তার স্ত্রী। এ দাবির পক্ষে তিনি কোনও কাবিননামা দেখাতে পারেননি। 

অন্যদিকে ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, আন্নিকে চার দিন আগে তিনি তালাক দিয়েছেন।

নওগাঁর বাসিন্দা আন্নি আক্তার একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।

আন্নি বলেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে ওই নারীকে মাহবুবের সঙ্গে দুই দিন পেয়েছি। তখন সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করিনি।

ইত্তেফাক/আরএইচ