যমুনা নদীতে নাব্য সংকটের কারণে নদীতে চর জেগে ওঠায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় অভ্যন্তরীণ রুটে নৌযান চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন দুই পাড়ের মানুষ। একই সঙ্গে পণ্য ও যাত্রী পারাপারে বেকায়দায় পড়েছেন ঘাটের ইজারাদাররাও।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কালীতলা নৌঘাট থেকে মাদারগঞ্জ জামথল নৌঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হয়। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল ও নানা ধরনের কৃষিপণ্য পরিবহন করা হয়। কিন্তু বর্তমানে এ নৌরুটে সি-ট্রাকে আর যাত্রী পরিবহন হচ্ছে না। ৬ জানুয়ারি থেকে ঘাটটি পাঁচ কিলোমিটার দূরে একই উপজেলার কর্নিবাড়ী ইউনিয়নের দেবডাঙায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে যাত্রীদের কয়েক কিলোমিটার পথ বেশি অতিক্রম করতে হচ্ছে। এমনকি ভাড়াও কয়েক গুণ বেশি দিতে হচ্ছে। সময়ও অপচয় হচ্ছে। জানা গেছে, ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ী ঘাট থেকে জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে পারাপার চলে। এর মধ্যে রয়েছে যমুনার বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং পাশের জামালপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার জামতৈল, ধারা বর্ষা, মানিক দাইর, ডাকাত মারা, বোহাইল, মাঝিরা, শংকরপুর, নাটুয়ার পাড়া, তারাকান্দীসহ প্রায় ২০টি চরাঞ্চল।
এছাড়া যমুনার পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের মানুষের চলাচলেরও প্রধান পথ ঐ দুইটি ঘাট। জেলা পরিষদ থেকে বার্ষিক ইজারা নিয়ে ইজারাদাররা নৌকায় লোকজন পারাপার করেন। এছাড়া সার সহজে এবং কম খরচে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পরিবহন হয় এ দুইটি ঘাট দিয়ে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা নৌপথ ব্যবহার করে সরাসরি যমুনা সার কারখানা থেকে কালীতলা ঘাটে ইউরিয়া সার আনতে পারছেন না। কালীতলা গ্রোয়েন ও দীঘলকান্দি হার্ড পয়েন্টের উজান ও ভাটিতে অসংখ্য চর জেগে ওঠায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে যমুনার বুকে অসংখ্য চর জেগে ওঠায় হাসনাপাড়া-দিঘাপাড়া, কাজলা-বেণীপুর, চকরতিনাথ-কর্নিবাড়ী নয়াপাড়া খেয়াঘাটও বন্ধ রয়েছে। আরো ১২টি নৌপথ বন্ধের উপক্রম হয়েছে। উপজেলার একাধিক সার ডিলার বলেন, যমুনা সার কারখানার বরাদ্দের সার আমরা নদীপথেই নিয়ে আসি। এতে খরচ ও সময় দুইটিই কম হয়। ঘাট অচল হলে শতাধিক কিলোমিটার ঘুরে ট্রাকে আনতে হবে। এতে সময় ও খরচ বাড়বে। শহড়াবাড়ী ঘাটে কথা হয় সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার শংকরপুর চরের যাত্রী মকবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘাট থেকে দুই দফা নৌকা বদল এবং বালির পথ হেঁটে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অনেক পথ ঘুরে আসতে হয়েছে। চর জেগে ওঠায় এবং ঘাটের পানি কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শহড়াবাড়ী ঘাটের ইজারাদার হযতর আলী বলেন, প্রায় ২০ লাখ টাকায় এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। ঘাটে পানি কমে যাওয়া এবং চর জেগে ওঠায় দুই দফা নৌকা বদল করে যাত্রীদের পৌঁছে দিতে হচ্ছে। অনেক পথ ঘুরে অধিক সময়ে যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে। প্রায় অচল হওয়ার পথে ঘাটটি।
এ ব্যাপারে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী নিবারণ চক্রবর্তী বলেন, নাব্য সংকটে নৌযান চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ঘাটে পানি কম এবং নদীতে চর জেগে ওঠায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার আগে নদীর পানি বাড়ার সম্ভাবনা কম। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, যমুনা নদীর নাব্য সংকটে কালীতলা নৌঘাট দেবডাঙ্গায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে জনসাধারণের সাময়িক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কালীতলা নৌরুটে নাব্য ফিরে এলে পুনরায় ঘাটটি দেবডাঙা থেকে কালীতলা নিয়ে আসা হবে।

জাবি ছাত্রকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ২ ছাত্রী বহিষ্কার