বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মিতুর বাবার মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলো পিবিআই চট্টগ্রাম অফিস

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:০০

চট্টগ্রামে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় তার জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত জামিন নামঞ্জুর করে। এদিকে, মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে একই ঘটনায় বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে মোশাররফের মামলাটি চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। গতকাল বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক চট্টগ্রাম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক সাংবাদিকদের জানান, মিতু খুনের ঘটনায় দুটি মামলা আছে। এর মধ্যে তার স্বামী বাবুল আক্তার যে মামলা করেছেন, সেটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আমরা জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আদালত সেটি গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য বলেছেন। একই ঘটনায় দুই মামলা নিয়ে আদালত পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন। আমরা সেই পর্যবেক্ষণ মেনে দ্বিতীয় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তবে দ্বিতীয় মামলার ডকেট প্রথম মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেছি।

জানতে চাইলে মিতুর বাবা ও মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার বাদী পরিবর্তন করে পুলিশকে বাদী করা প্রয়োজন। পুলিশ বাদী হলে মামলার গুরুত্ব বাড়বে। বাদীই যদি আসামি হয় তাহলে বিচারে আসামিরা সুযোগ পেতে পারে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাদী যদি আসামি হয় সেক্ষেত্রে পুলিশ বাদী হয়ে মামলার তদন্ত পরিচালনা করেন। সেক্ষেত্রে মামলার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস, জব্দ তালিকার আলামত, আসামি ও সাক্ষীর জবানবন্দি বিচারকার্যের সহায়ক হয়।

অপরদিকে, গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল হালিমের আদালত বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছিলেন।

মহানগর পিপি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদেরকে জানান, মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় বাবুল আক্তারের জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গতকাল আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে।

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাবুল আক্তারকে গ্রেফতারের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। ২০২১ সালের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের লক্ষ্যে গত ১২ মে ঐ মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

আগের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দাখিলের পর ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আট জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাকি সাত আসামি হলেন—মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু এবং শাহজাহান মিয়া।

এর আগে গত ১০ মে মামলার বাদী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে ডেকে আনা হয় বাবুল আক্তারকে। ১১ মে সারা দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে জিইসি মোড়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। এ ঘটনায় ঢাকায় অবস্থান করা মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে নিজের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার কয়েক দিন পরেই মামলার তদন্তে নতুন মোড় নেয়। একপর্যায়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার শ্বশুর।

পাঁচলাইশ থানা পুলিশের পর চট্টগ্রামের ডিবি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। তারা প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মামলা তদন্তের ভার পায় পিবিআই। মিতু হত্যার পর বাবুল আক্তার প্রথমে ঢাকার মেরাদিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিলেন। ২০১৬ সালের ২৪ জুন বাবুল আক্তারকে ঢাকার ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে এনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

 

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে ২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন

মেয়ের নির্যাতনের বিচার চেয়ে চুরির মামলায় ফাঁসলেন বাবা

চট্টগামে রোগ নির্ণয় যন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা হয় না!

আসামির দায়ের কোপে  পুলিশ সদস্যের কবজি বিচ্ছিন্ন 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানিং মেশিন জটিলতা, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলো মার্কিন কোম্পানি

কুষ্টিয়ায় মাদক মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন

ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি চিকিৎসাসেবা বেহাল

ভারতীয় নাগরিক হত্যা মামলায় প্রেমিকার যাবজ্জীবন