সরকারি সেবামূলক কাজে সমন্বয়হীনতা কাম্য নহে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৪৫

রাজধানীর আজিমপুর কলোনির একাংশে বহুতল ভবন নির্মাণ করিতেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কলোনির অন্য অংশে বসবাস করিতেছেন সরকারি কর্মকর্তারা; কিন্তু উন্নয়নকাজে গণপূর্তের সহিত ওয়াসা ও তিতাসের কোনো সমন্বয় নাই। নূতন ভবন নির্মাণের সময় জরুরি নাগরিক সেবার পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইতেছে। বা অনেক সময় লাইন ফাটিয়া গিয়া দৈনন্দিন গ্যাস, পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিতেছে; কিন্তু তাহা শিগ্গির মেরামত না করায় পরিবার-পরিজন লইয়া সরকারি কর্মকর্তারা দুর্ভোগ পোহাইতেছেন। ওয়াসার অভিযোগ হইল, তাহাদের সহিত কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই গণপূর্ত এই উন্নয়নকাজ করিতেছে। আর গণপূর্ত বলিতেছে, তাহারা অন্য সংস্থাগুলির সহিত যোগাযোগের চেষ্টা করিয়াছে বটে; কিন্তু তাহারা তাহাদের কাজে সহযোগিতা করিতেছে না। এইভাবে দুই সরকারি সংস্থার এমন রশি টানাটানিতে দুর্ভোগ বাড়িতেছে খোদ সরকারি কলোনির বাসিন্দাদের। তাহারা দ্রুত এই সমস্যা নিরসনের দাবি জানাইয়াছেন।

ইত্তেফাকে প্রকাশিত ছোট্ট এই প্রতিবেদনটি হইতে অনেক কিছুই চিন্তা করিবার বিষয় আছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন মহানগরিতে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, খোঁড়াখুঁড়ির পর যথাসময়ে কাজ শেষ না করা, ফেলিয়া রাখা কিংবা কাজ শেষে রাস্তা মেরামত না করা ইত্যাদির কারণে যানজটসহ নানাভাবে নগবাসীর ভোগান্তি বাড়ে। কিন্তু জনগণের এই দুর্ভোগ লাঘবের তেমন কোনো প্রচেষ্টা সচরাচর পরিলক্ষিত হয় না। আজ একই সমস্যায় নিপতিত হইয়াছেন খোদ সরকারি কর্মকর্তারা ও তাহাদের পরিবারবর্গ। বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, ছোট্ট একটি কলোনিতেও সরকারি কাজে সমন্বয়ের অভাব রহিয়াছে। গণমাধ্যমে যেইভাবে বিষয়টি তুলিয়া ধরা হইয়াছে, তাহাতে সরকারি কর্মকর্তাদের অসহায়ত্বই ফুটিয়া উঠিয়াছে। এখানে গণপূর্ত যে অভিযোগ করিতেছে তাহাও আমলে নেওয়া উচিত। তাহারা যোগাযোগ করিয়া থাকিলে তাহাদের সহায়তা করা হইবে না কেন? মিরপুর টোলারবাগে ইতিমধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বহুতলবিশিষ্ট সুন্দর আবাসনের ব্যবস্থা করা হইয়াছে। ইহা বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নেরই প্রতিচিত্র। অনুরূপভাবে আজিমপুর কলোনিতেও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য পুরাতন ভবনগুলি ভাঙিয়া নূতন করিয়া বহুতল ভবন তৈরি করা হইতেছে; কিন্তু যেই সকল ভবনে এখনো সরকারি কর্মকর্তারা বসবাস করিতেছেন, তাহাদের জন্য সমস্যা তৈরি করা হইবে কেন? অনেক সময় দেখা যায়, এক সরকারি বিভাগ অন্য বিভাগের সহিত চিঠি চালাচালি করিয়া যাইতেছে দিনের পর দিন। সামান্য একটি বিষয়েও অনেক সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না। যেই শিশু এই সমস্যা লইয়া জন্ম নেয়, কার্যক্ষেত্রে যুবক বয়সেও তাহার সমাধান হয় না। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি এই সিদ্ধান্তহীনতা ও সমন্বয়হীনতার কারণেই উন্নতির শিখরে পৌঁছাইতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সময়ে কাজ আদায় করিয়া লইতে হইলে স্পিড মানি তথা ঘুষ দিতে হয়। তখন সমস্যার দ্রুত সমাধা হইয়া যায়।

স্বাধীনতার এত বত্সর পরও সরকারি সেবামূলক কাজে সমন্বয় না থাকাটা দুঃখজনক। আমরা দেখিতে পাই, রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের সড়ক ও অলিগলিতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলে। সিটি করপোরেশনসহ বিদু্যত্, ইন্টারনেট, ওয়াসা, ডিপিডিসি, বিটিআরসি, ডেসকো, তিতাসসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার কাজের স্বার্থে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়; কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে একই রাস্তায় একাধিকবার খোঁড়াখুঁড়ির কাজও করা হয়। অনেক সময় এই ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের যে নীতিমালা রহিয়াছে তাহা অনুসরণ করা হয় না। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাইতে হয় নগরবাসীকে। এই জন্য নীতিমালা অনুসরণসহ নির্মাণ অব্যবস্থাপনায় দায়ীদের চিহ্নিত করিয়া আইনের আওতায় লইয়া আসা উচিত। এই জন্য ওয়ান স্টপ সমন্বয় সেল বা মনিটরিং সেলের কার্যক্রম কার্যকর ও গতিশীল করা প্রয়োজন। এই সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশসহ নগরবাসীর সেবা প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল সংস্থা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের অধীনে লইয়া আসা যাইতে পারে।

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন