বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সিলেটের সুরমা নদী এখন বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:৩০

সিলেট সিটি করপোরেশনে প্রতিদিন প্রায় ৫৪ টনের মতো প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, যার বেশির ভাগই ছিল একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের তৈরি স্যাশে, প্লেট, চামচ এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডোর, দ্য প্লাস্টিক ডেলিউজ: ইন দ্য সিলেট সিটি করপোরেশন এরিয়া, বাংলাদেশ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

এসটিইপিপি (সাসটেইনেবল ট্রান্সিশনস টু অ্যান্ড প্লাস্টিক পলিউশন) প্রজেক্টের অধীনে এসডো এবং ইউনিভার্সিটি অফ পোর্টসমাউথ এই গবেষণাটি পরিচালনা করে। 

গবেষণায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্লাস্টিক বর্জ্যের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়, যাতে সিলেটে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের ধারণা পাওয়া যায়। গতকাল বুধবার এসডো আয়োজিত ভার্চুয়ালি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক  চৌধুরী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা এই প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছি। কিন্তু এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে সরকার এবং জনগণকে একত্রে কাজ করতে হবে। তবে আমরা আশাবাদী যে, এক সাথে এই প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে সক্ষম হব এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমাতে পারব।

গবেষণায় দেখা যায়, উৎপাদিত সকল বর্জ্যের মধ্যে শতকরা ৬৭ ভাগ হচ্ছে জৈব বর্জ্য, ১৭ ভাগ প্লাস্টিক বর্জ্য, ৩ ভাগ ই-বর্জ্য, ২ ভাগ মেডিক্যাল বর্জ্য এবং ১ ভাগ অন্যান্য বর্জ্য। পলিমার দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা পণ্যের অব্যবস্থাপনাই মূলত সিলেট শহরে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফেলে দেওয়া বর্জ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক যেমন প্লাস্টিকের বা পলিথিনের ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল, ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য, স্যাশে বা মিনি প্যাক, খাবারের প্যাকেট, একবার ব্যবহারযোগ্য কাটলারি, প্লাস্টিকের জুতা, অলঙ্কার, ঝুড়ি, ব্যারেল, প্লাস্টিকের আসবাবপত্র, পিভিসি ফিটিংস, পিভিসি ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্লাস্টিকের খেলনা। এসব প্লাস্টিক বর্জ্যের মধ্যে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পরিমাণ প্রায় ৭৮ শতাংশ।

ইতিমধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়, সিলেট ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধির হার ছিল ১৭ টন/বছর এবং ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তা কমে বার্ষিক ১২.৫ টনে দাঁড়িয়েছিল। ২০২০ সাল পর্যন্ত প্লাস্টিক বর্জ্যের বৃদ্ধির হার ১৪.৭৫ ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেখা যায় যে, ২০২০-২০২১ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ ১৮ টন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো শুধুমাত্র মানুষের জন্য নয়, পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।

সাবেক সচিব এবং এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মারগুব মোর্শেদ বলেন, সরকারকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য, বিশেষ করে পলিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করতে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সিলেটের সকল পর্যটন স্থানে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও তদারকি করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

এসডো-এর মহাসচিব এবং গবেষণার টিম লিডার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি। প্রকৃতপক্ষে জিরো ওয়েস্ট পরিকল্পনা এবং পদ্ধতির মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এসডোর নির্বাহী পরিচালক, সিদ্দীকা সুলতানা এই বিষয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিকল্প পণ্য প্রচার করতে এবং একটি আইনি কাঠামো প্রয়োগ করতে আহ্বান জানান।

এই গবেষণার জন্য বেসলাইন জরিপ হিসেবে ৬০০ জন ক্রেতা, ২৭০ জন খুচরা বিক্রেতা, ১৫০ জন বর্জ্য সংগ্রহকারী এবং কিছু প্লাস্টিক প্রস্ততকারকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এছাড়াও ১৫ জনকে মূল তথ্যদাতা হিসেবে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, যার বেশির ভাগই ছিলেন সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা। 

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সিলেটে বন্যা : বহু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, কাদাপানিতে চরম দুর্ভোগ

বিশেষ সংবাদ

সিলেটে ডায়রিয়া, চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব

বন্যার পর ঘুরে দাঁড়াচ্ছে জৈন্তাপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো

ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষককে গণপিটুনি 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সিলেটে বন্যার পানি নামছে কৃষি ও সড়কের ক্ষতি বেশি

সিলেটে বন্যা: শুধু মৎস্য খাতে ক্ষতি ২৬ কোটি টাকা

সিলেট

বন্যায় বিশুদ্ধ পানির সংকট

সেতুতে উঠতে বাঁশের সাঁকো