শাহজালাল মাজারে চিরকুট

‘আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে খোকন মামুর এই অবস্থা হতো না’

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০৮

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে টাকা গণনার সময় ‘খোকন মামু’কে নিয়ে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে খোকন মামুর এই অবস্থা হতো না।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্স ও ডেগগুলোর তালা খুলে চতুর্থবারের মতো টাকা গণনা শুরু হয়। এ সময় তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ওই চিরকুটটি তার মধ্যে পাওয়া যায়। 

চিরকুটটিতে লেখকের কোনো নাম বা ঠিকানা উল্লেখ নেই। চিরকুটে লেখা হয়েছে, ‘আলম খাঁন মুক্তি, আবুল কাশেম, মিসবা উদ্দিন সিরাজ, আফতাব হোসেন তাদের অন্তরের মায়ার মানুষ খোকন মামু।’  

চিরকুটে একটি হৃদয়ের ছবিও আঁকা হয়েছে এবং শেষে ‘মামুজী’ সম্বোধন করা হয়েছে। 

তবে ‘খোকন মামু’ কে, তার কী ধরনের পরিস্থিতির কথা চিরকুটে বলা হয়েছে কিংবা চিরকুটটি কে লিখেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। 

এদিকে দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা। এ ছাড়া ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া।

টাকা গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসন ও সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া গণমাধ্যমকর্মী, সচেতন সিলেটবাসী ও মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। 

এর আগে সর্বশেষ ১৫ আগস্ট মাজারের দানবাক্স ও মানতের বাক্স খোলা হয়েছিল। সেবার গণনা করে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এর আগে ১১ জুলাই দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। ২২ জুন দানবাক্স খোলার পর পাওয়া গিয়েছিল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে আসেন। তাদের অনেকে দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণ ও অন্যান্য সামগ্রী দান করেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর এসব দানবাক্স ও ডেগ খুলে হিসাব করা হয়।

এবারের গণনায় পাওয়া ‘খোকন মামু’কে নিয়ে লেখা চিরকুটটির লেখক এবং এর পেছনের ঘটনা এখনো জানা যায়নি।

ইত্তেফাক/এসজে