তামিম ইকবালের টি-২০ ক্যারিয়ার নিয়ে গণ-আলোচনা অনেক দিন ধরেই চলছে। গত কয়েক দিনে বাঁ-হাতি এই ওপেনারের সঙ্গে বিসিবির কর্তাদের দফায় দফায় মিটিং হয়েছে। অনেক দেনদরবারের পর নিজের সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে এসেছেন তামিম। তাতে বড় কোনো পার্থক্য তৈরি হয়নি।
বোর্ড কর্তাদের অনুরোধের ঢেঁকি গিলে ক্রিকেটের খুদে ফরম্যাটে নিজের ভবিষ্যতকে ‘বিরতি, প্রয়োজনের’ দেয়ালে ঢেকে দিয়েছেন। আড়ালে ‘অবসরের’ পতাকা মুচকি হাসিতে রব তুলছে। আপাতত সফলতা পাওয়া বোর্ডের ঊর্ধ্বতনদেরও হয়তো সেটি বুঝতে নিশ্চয়ই বাকি নেই।
গত কিছুদিনের আলোচনার উত্তাপে জল ঢালতে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন তামিম। নিজের শহর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে পড়ন্ত বিকেলে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, টি-২০তে ছয় মাসের বিরতি নিচ্ছেন তিনি। এই সময়টাতে ওয়ানডে, টেস্টে ফোকাস করবেন তিনি। মেয়াদ শেষে যদি প্রয়োজন হয় এবং তিনি প্রস্তুত থাকেন, তবে ফিরবেন এই ফরম্যাটে। তবে মন থেকে তামিম দোয়া করছেন, যেন তেমন প্রয়োজন না দেখা দেয় বাংলাদেশ দলে।
আন্তর্জাতিক টি-২০তে তামিম সর্বশেষ খেলেছেন ২০২০ সালের মার্চে, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মিরপুরে। গতকাল ঘোষিত ছয় মাসসহ বিরতি দাঁড়াচ্ছে ২৬ মাস! এমন ছবিটা দেখার পর দেশের হয়ে ৭৮ ম্যাচেই তামিমের টি-২০ ক্যারিয়ারের যবনিকা ধরে নেওয়াটা অমূলক হবে না।
স্ট্রাইক রেট, ব্যাটিং গড় নিয়ে সমালোচনায় জেরবার দেশের সফল এই ওপেনার। লম্বা বিরতি নিয়েছেন এই ফরম্যাটে। গত বছর টি-২০ বিশ্বকাপও খেলেননি। বিসিবি সভাপতিকেও বলে দিয়েছেন, ফিরতে চান না টি-২০তে। কিন্তু তরুণেরা ভালো করছে না দেখে বিসিবি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিল তামিমকে। কিছুটা নড়চড় হলেও এই ফরম্যাটে দেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান যে আগ্রহ হারিয়েছেন, তা গতকালের সংবাদ সম্মেলনেই স্পষ্ট।
সাগরিকায় তামিম বলেছেন, ‘ওনারা অবশ্যই চাইছেন আমি চালিয়ে যাই অন্তত বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আমার ব্যাপারটা আলাদা ছিল। এখন দুজন মিলে যেটা ভালো হয় ঐ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ছয় মাস আমি টি-২০ ক্রিকেট নিয়ে ভাবছি না। এই কয়েক মাস আমার পুরো ফোকাস টেস্ট ও ওয়ানডেতে থাকবে।’
চলতি বছর টি-২০ বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দলে নিজের প্রয়োজন পড়বে না আশা করছেন তামিম। তরুণেরা থিতু হতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। ৩২ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার বলেন, ‘আশা করি এই ছয় মাসে তরুণেরা এত ভালো খেলবে, আমার আর প্রয়োজন পড়বে না। তার পরও ছয় মাস পর আল্লাহ মাফ করুক, যদি এমন সময় আসে ক্রিকেট বোর্ড, সিলেক্টর বা টিম ম্যানেজম্যান্ট যদি মনে করে আমাকে দরকার, আমিও যদি প্রস্তুত থাকি, তখন আবার এটা নিয়ে আলাপ হবে।’
বিসিবি-তামিমের অনুরোধ ও ভাবনার দোলাচলের পাঠ শেষ হয়েছে। কে জানে, হয়তো অবসরের ছবিটাও এঁকে ফেলেছেন তামিম।
