১০ বছরেও পূর্ণতা পেল না ভাষা শহীদ রফিক গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর । বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মানিকগঞ্জের রফিক উদ্দিন আহমেদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ২০০৮ সালে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ তার জন্মভূমি সিংগাইর উপজেলার পারিল গ্রামের রফিক নগরে এই গ্রন্থাগার ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে। তবে ভাষা শহীদ রফিকের তেমন কোনো স্মৃতি সংরক্ষিত নেই জাদুঘরটিতে।
স্থানীয় সমাজ হিতৈষী লে. কর্নেল (অব.) মজিবুল ইসলাম খান পাশার দানকৃত ৩৪ শতাংশ জমির উপর ২০০৮ সালে নির্মাণ করা হয় ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরে গিয়ে দেখা যায়, কেউ বই পড়ছে কেউ পত্রিকা আবার কেউ গল্প গুজব করে সময় কাটাচ্ছে। গ্রন্থাগার ও জাদুঘরের সামনে শহীদ রফিকের যে ম্যুরাল রয়েছে তার সঙ্গে রফিকের বাস্তব ছবির কোনো মিল না থাকায় ক্ষোভ রয়েছে এলাকার লোকজনের। গ্রন্থাগারে শহীদ রফিকের জীবনী ও অন্যান্য বিষয়াদি নিয়ে অল্প কিছু বই থাকলেও অন্যান্য ভাষা শহীদদের নিয়ে লেখা বইয়ের সংখ্যা খুব কম। যার ফলে নতুন প্রজন্ম বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত হতে পারছে না বলে পাঠকদের অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী ফিরোজ হোসেন বলেন, শুনেছি শহীদ রফিকের পরিবারের কাছে তার হাতে বোনা রুমাল, কলম, ম্যাট্রিকের সনদ, নকশি কাঁথা রয়েছে। সেগুলো জাদুঘরে সংরক্ষণ করা গেলে নতুন প্র্রজন্ম সেগুলো দেখতে পারতো।
১৯৯৫ সালে প্রয়াত সংসদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী শামসুল ইসলাম খানের সার্বিক সহযোগিতায় এবং তত্কালীন ইউএনও আশরাফ আলীর পৃষ্ঠপোষকতায় সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলা চত্বরে টিনের ঘরে রফিক স্মৃতি পাঠাগারের কার্যক্রম চালু করা হয়। পাঠাগারের নিজস্ব তহবিলের তিন লাখ টাকা ও সরকারি অনুদান দিয়ে ২০০৬ সালে তত্কালীন ইউএনও দেলোয়ার হোসেন উপজেলা চত্বরে পাঠাগার ও জাদুঘরের একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করেন। জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বেসরকারি সংস্থা প্রশিকা শহীদ রফিকের বাড়িতে জাদুঘর স্থাপন করে। শহীদ রফিকের বেশকিছু দুর্লভ ছবি রয়েছে এখানে। এছাড়া বাংলা একাডেমি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং প্রশিকাসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে দেওয়া প্রায় ১২ হাজারের মতো বই রয়েছে এই গ্রন্থাগারে। শহীদ রফিক গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান মো. ফরহাদ বলেন, গ্রন্থাগারে শহীদদের নিয়ে গবেষণাভিত্তিক বই থাকলে নতুন প্রজন্ম জানতে পারতো ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস। প্রতিদিনই শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পাঠাগারে এসে জানতে চান ভাষা শহীদদের ওপর লেখা আরও কিছু বই কেন সংরক্ষণ করা হচ্ছে না।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও অমর একুশে পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার তোবারক হোসেন লুডু বলেন, শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ আমাদের অহংকার। ভাষা আন্দোলনে তাঁর আত্মদানে সিঙ্গাইরের মাটি ও মানুষ ধন্য। ভাষার জন্য জীবন উত্সর্গ করে গেলেও এই বীর পুরুষের কবরটি এখনো শনাক্ত করা হয়নি। তিনি সরকারের কাছে শহীদ রফিকের কবর চিহ্নিত করার দাবি জানান। মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন বলেন, শহীদ রফিক গ্রন্থাগার ও জাদুঘরে ভাষা আন্দোলনের উপর লেখা বইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বই যেন পর্যাপ্ত সংখ্যক থাকে, সে বিষয়ে অবশ্যই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শহীদ রফিকের রুমাল, নকশিকাঁথা, ম্যাট্রিকের সনদ, কলমসহ অন্যান্য জিনিস তার ছোট ভাইয়ের কাছে রয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সেগুলো স্মৃতি জাদুঘরে রাখার ব্যবস্থাও আমরা করবো।
