সিলেটে বেশ কিছুদিন থেকে মোবাইল ফোনসেট চোর চক্র সক্রিয়। সীমান্ত পথেও চোরাই মোবাইল ফোনের চালান আসছে। এসব মোবাইল ফোন সিলেট, রাজাধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরের মার্কেটে অল্প দামে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব চোরাই মোবাইল সেট বিক্রি হচ্ছে আকর্ষণীয় মূল্যে।
নামিদামি শপিং মলে সাজানো এসব মোবাইল সেট দেখে বোঝাই যায় না, এসব নতুন না পুরোনো, বৈধ পথে না অবৈধ পথে আনা। প্রায়ই প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার গোয়াইনঘাট সীমান্ত পথে আসা মোবাইল ফোনের ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি বড় চালান ধরা পড়ে বলে থানার ওসি পরিমল দেব গত বৃহস্পতিবার রাতে ইত্তেফাককে জানান।
অন্যদিকে সিলেট নগরীর জনবহুল এলাকায় চলাচলকারীদের অনুসরণ করে পিছু নেয় মোবাইর ফোন চোর চক্রের সদস্যরা। সুযোগে দামি মোবাইলটি হাতিয়ে নেয়। অনেক সময় ওরা সিএনজিচালিত অটোর সহযাত্রী হয়ে সুনিপুণভাবে মোবাইল সেটটি হাতিয়ে নেয়। সিএনজি অটোচালকদের সহযোগিতা থাকার বিষয়টিও ধরা পড়েছে।
এই চক্রে নারী সদস্যরাও রয়েছে। তারা কোনো সময় বোরকা পরে বা সাধারণ বেশেও বাসাবাড়িতে হানা দেয়। সুযোগে চট করে ঘরের ভেতরে ঢুকে হাতের কাছে রাখা মোবাইলটি প্রথমেই আলগুছে সরিয়ে ফেলে। কারো জিজ্ঞাসার মুখে পড়লে চট করে বলে ‘বাসা ভাড়া নিতে চাই’ অথবা যে কোনো একজনের নাম বলে জানতে চায় এটা ‘অমুকের বাসা’ কি না। নারী বলে কেউ তেমন সন্দেহ করে না। কিন্তু যখন মোবাইলটি খুঁজে পাওয়া যায় না। তখন বেশ দেরি হয়ে যায়। এ রকম একাধিক ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় যাচ্ছে। আবার নানা ঝক্কি-ঝামেলার জন্য অনেকেই বিষয়টি চেপে যাচ্ছে। গত কয়দিন আগে নগরী থেকে একজন ফটো সাংবাদিকের মোবাইল ফোন চুরি হলে পরে আইএমইআই নম্বরের সূত্র ধরে ছাতক উপজেলা থেকে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।
সিলেট এসএমপির এডিসি (গণমাধ্যম) আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের বলেন, অনেক সময় ঐ চক্র আইএমইআই নম্বর বদল করে ফেলে। আবার মোবাইলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রয় করে দেয় বলে তাদের আর ধরা যায় না। তবে এই পন্থাটিও কীভাবে বন্ধ করা যায় তা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। সীমান্তের ওপার থেকে আসা বিভিন্ন ব্রান্ডের মোবাইল ফোন চোরাই পথে সিলেটের সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে। আর এসব সিলেট, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নামিদামি শপিং মলে চলে যাচ্ছে। এমন খবরের ভিত্তিতে সিলেটের সীমান্ত এলাকা বিছানাকান্দি দিয়ে অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশকালে ভারতীয় চোরাচালান চক্রের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের ২০২টি মোবাইল ফোন আটক করা হয়েছে বলে গোয়াইনঘাট থানার ওসি পরিমল দেব গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে জানান। তবে চোরাচালান চক্রের কাউকে আটক করা যায়নি।
বৃহস্পতিবার ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই প্রলয় রায় ও এসআই মতিউর রহমান ফোর্স নিয়ে উপজেলা সদরের বাইপাস নামক স্হান থেকে সিলেট শহরে প্রবেশের সময় ২০২টি মোবাইল ফোনসেট আটক করে। আটক মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা। পুলিশ জানায়, বিছানাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী একটি মোটরসাইকেলে অভিযান চালিয়ে তিনটি কার্টুনে ২০২টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে মোবাইল এনে দেশের বিভিন্ন এলাকার মার্কেটে পাইকারি বিক্রি করত চোরাকারবারিরা। পরে পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা করে।
ওসি জানান, একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালানি দলের সদস্যরা দীর্ঘ দিন থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন মার্কেটে পাইকারি দরে মোবাইল বিক্রি করত। মূলত ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো চোরাকারবারিরা বেশি দামে সিলেটের মোবাইলের দোকানগুলোতে বিক্রি করে। ভারতের চোরাইকৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই বাংলাদেশে আসার পর শনাক্ত না হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে চোরাকারবারিরা।
