হাঁসপালনে বদলেছে গুরুদাসপুরের বহু মানুষের ভাগ্য

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:০৬

লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গুরুদাসপুরে গড়ে উঠেছে শ দুয়েক হাঁসের খামার। এসব খামারের আয়ে বদলেছে খামারীদের ভাগ্য। স্বাবলম্বী হয়েছেন বহু মানুষ। হাঁসপালনে খামারিদের সুদিন ফেরায় এই পেশায় নামছেন আরও অনেকেই। শুধু গুরুদাসপুর নয় চলনবিল অধ্যুষিত আশপাশের আরও ৮ উপজেলার মানুষ হাঁস পালনে ঝুঁকেছেন।

গুরুদাসপুর প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, শুধু চলনবিলেই তালিকাভুক্ত হাঁসের খামার রয়েছে ৪৫১টি। এরমধ্যে ২শর ওপরে খামার রয়েছে শুধু গুরুদাসপুরেই। প্রতিটি খামারে হাঁস রয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার। এছাড়া তালিকার বাইরেও পারিবারিক পর্যায়ে শত শত খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারীদের পাশাপাশি খামারকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বেকারত্ব ঘুঁচিয়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, খামার পর্যায়ে রাজহাঁস পালন হচ্ছে ৩৮ হাজার ৫৫০টি। এছাড়া পাতিহাঁস ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯২টি। বর্ষার শুরুতে খাদ্য কম লাগায় ১ দিনের বাচ্চা থেকেই এসব হাঁস পালন শুরু করেন খামারিরা। ৬ মাস পর থেকে এসব হাঁস ডিম দিতে শুরু করে। প্রতিটি হাঁস বছরে ২০০ থেকে ৩০০টি ডিম দেয়। এতে খামারিরা খরচ বাদে প্রতি মাসে ১০ হাজারের বেশি অর্থাৎ বছরে প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করে থাকেন।  

স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি তালিকাভুক্তি ছাড়াও কয়েক’শ হাঁসের খামার রয়েছে। এসব খামারে ১০ লাখেরও বেশি হাঁস রয়েছে। হাঁসপালনে এই অঞ্চলের বহু মানুষের বেকারত্ব ঘুচেছে। বেড়েছে আয়। পূরণ হচ্ছে স্থানীয়দের আমিষের চাহিদাও। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুরুদাসপুরের ২শ ছাড়াও চলনবিলের সিংড়ায় ১৫০টি, নলডাঙ্গায় ৫৬টি, বড়াইগ্রামে ৬০টি, বাগাতিপাড়ায় ৬০টি ও লালপুরে রয়েছে ৫৫টি হাঁসের খামার। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে এসব এলাকায় তিন জাতের হাঁস বেশি পালন করা হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি পালন হয় খাটি ক্যামবেল জাতের হাঁস। এছাড়া ইন্ডিয়ান রানার ও চায়না জাতের হাঁসও পালন করছেন খামারিরা।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, গুরুদাসপুরের নন্দকুঁজা, আত্রাই ও গুমানী নদীতে পৃথক পৃথকভাবে হাঁসের খামার গড়ে উঠেছে। কেউ কেউ জালের ঘের তৈরি করে হাঁস পালন করছেন। 

পিঁপলা গ্রামের খামারি সোহাগ জানান, তিনি সারা বছরই হাঁস পালন করেন। এখন তার খামারে ক্যাম্বেল ও জিংডিং জাতের ৫৮২টি হাঁস রয়েছে। ৪-৫ মাস বয়সী হাঁস কেনেন তিনি। সাড়ে ৫ মাস বয়স থেকেই ডিম দেওয়া শুরু করে হাঁসগুলো। এখন তার খামারের ৪৮০টি হাঁস ডিম দিচ্ছে। বছরে খরচ বাদে ৩-৪ লাখ টাকা লাভ থাকে তার।

গুরুদাসপুরের হরদোমা এলাকার বাসিন্দা রোকেয়া জানালেন, তিনি ২০-২৫টি হাঁস পালন করেন। সকালে হাঁসগুলো পাশের পুকুরে চলে যায়। সারাদিন পুকুরের শামুক-ঝিনুক খায়। পরিবারের ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণ ছাড়াও হাঁস বিক্রি করে আয় করছেন তিনি।

খামারি  আফজাল ও আব্দুর রহিম জানান, এক দিনের বাচ্চা কিনে ডিম উপযোগী করতে  ৫শ হাঁসে খরচ হয় প্রায় এক লাখ টাকা। তবে ডিম দেওয়া শুরু করলে খরচ নিয়ে ভাবনা থাকেনা।
গুরুদাসপুর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ইত্তেফাককে জানান, হাঁসপালনে খামারিদের সরকারিভাবে বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ক্রমেই বাড়ছে হাঁসের খামারের সংখ্যা। বাণিজ্যিক খামার পর্যায় ছাড়াও ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার হাঁস পালনের সাথে যুক্ত রয়েছে। এসব খামারে রয়েছে ৭ থেকে ৮ লাখ হাঁস। 

ইত্তেফাক/ ইআ