মাদারীপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫৬

মাদারীপুর জেলার চার উপজেলায় বিশেষজ্ঞ (কনসালটেন্ট) চিকিৎসকের অভাবে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে অধিকাংশ জটিল রোগী বা মুমূর্ষু রোগীদের অনত্র গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এদিকে শিবচর, রাজৈর, কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতালে ২৬টি বিশেষজ্ঞ (কনসালটেন্ট) চিকিৎসকের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালসহ তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ২৬টি পদ শূন্য রয়েছে। সদর হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিওলজির একটি পদসহ জুনিয়র কনসালটেন্ট চক্ষু, রেডিওলজি ও নাক-কান-গলা বিভাগে চারটি পদ শূন্য। কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি ও সার্জারি বিভাগে জুনিয়র কনসালটেন্টের দুটি পদ বর্তমানে শূন্য। এছাড়া নবসৃষ্ট জুনিয়র কনসালটেন্ট পদের শিশু, কার্ডিওলজি, চক্ষু, অর্থপেডিক, চর্ম-যৌন ও নাক-কান-গলা বিভাগের ছয়টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে জুনিয়র কানসালটেন্ট শিশু, চর্ম-যৌন, কার্ডিওলজি, নাক-কান-গলা, অর্থসার্জারি ও গাইনির ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে। রাজির উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি ও সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্টের দুটি পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য। এছাড়া ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পর থেকে নবসৃষ্ট চক্ষু, শিশু, অর্থপেডিক, নাক-কান-গলা, চর্ম-যৌন এবং কার্ডিওলজি বিভাগে জুনিয়র কনসালটেন্টের ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে অন্তত ১১ জন চিকিৎসক ২৬টি কনসালটেন্টের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে কনসালটেন্টসহ অন্যান্য চিকিৎসকের শূন্যপদে লোক নিয়োগ দেওয়া না হলে জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও ভেঙে যাবে বলে তাদের আশঙ্কা।

কালকিনির এনায়েতনগর এলাকার আব্দুল গোফরান জানান, আমরা অনেক দূর থেকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাই। সেখানে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পেরে ফরিদপুর বা বরিশাল যেতে বাধ্য হচ্ছি। ফলে একদিকে সময়মতো চিকিৎসা করাতে পারছি না, অপর দিকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। 

স্নানঘাটা এলাকার মজিদা বেগম বলেন, সময়মতো মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে বরিশাল, ফরিদপুর বা ঢাকা নেওয়ার পথে অনেক সময় রোগী মারা যায়। জরুরি ভিত্তিতে মাদারীপুর জেলায় কনসালটেন্টসহ অন্যান্য চিকিৎসক-কর্মচারী নিয়োগের আবেদন এলাকাবাসীর। 

সিভিল সার্জন অফিসের এমওসিএস ডা. এস এম খলিলুজ্জামান বলেন, চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। ফলে রোগীরা সঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

ইত্তেফাক/ ইআ