প্রতিভাধর মানুষ মাত্রই মুক্তচিন্তার পথ পিপাসু। প্রতিবারের মতো নব্য ঢাবিয়ানদের শিক্ষাগত দিক, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার পথ উন্মোচনের লক্ষ্যে এবং তরুণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাইটার্স হাব আয়োজন করেছে “Unleash Your True Potential 4.0”। দিকনির্দেশনামূলক সেমিনারটির চতুর্থবারের আয়োজন ছিল এটি।
শনিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা, এবং দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা—দুটি পর্বে বিভক্ত ছিল এই সেমিনার। আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল এন্টারপ্রাইজ ৩৬০।
ডিইউ রাইটার্স হাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সাহিত্যপ্রেমী স্বপ্নবাজ তরুণের সংগঠন, যারা সৃজনশীল সাহিত্য চিন্তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। অনলাইনে জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এবারের আয়োজনে অংশ নেন স্বনামধন্য ছয়জন অতিথি। বক্তা ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক কিঙ্কর আহসান, অনলাইন ইন্সট্রাকটর ও মোটিভেশনাল স্পিকার সাদমান সাদিক, ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাফিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
বিভিন্ন পেশায় কর্মরত, ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতায় পারদর্শী এই ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন তাদের জীবন অভিজ্ঞতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও পরবর্তী কর্মজীবনে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো। ইভেন্টটি নজর কেড়েছে প্রায় নয় হাজার নেটিজেনের।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রথম ধাপে অতিথি হিসেবে যুক্ত হন ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আবদুল্লাহ আল জিসান। শুরুতেই তিনি তরুণ জ্ঞানপিপাসুদের জানিয়েছেন কিভাবে পাঠ্যবই পড়ার পাশাপাশি সহকার্যক্রম অনুশীলন কিভাবে পরবর্তী কর্মজীবনে সাহায্য করে। প্রথমবর্ষ থেকেই পড়াশোনা ও অন্যান্য বিষয়ে নিজেকে তৈরি করার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
অ্যাকাডেমিক বিষয়ে তথ্য ও সাহায্য নিয়ে সাজানো এই সেগমেন্ট শেষ হবার সাথেসাথেই আয়োজনে যোগ দেন তরুণদের প্রিয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ সাদমান সাদিক। তিনি তরুণের সাথে ভাগাভাগি করেছেন জানা-অজানা কমিউনিকেশন হ্যাকস্। জানালেন, বর্তমানে ছাত্রজীবন থেকেই কমিউনিকেশনের বিকল্প নেই; মানুষের সাথে কথা বলা, ভাব-মতের আদান-প্রদান, নিজেকে ঠিকঠাক উপস্থাপন করা একজন শিক্ষার্থীকে এগিয়ে যেতে অনেকটা সাহায্য করে। আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই সফল হওয়া যায়, এমনটাই বলেছেন তিনি।
এই সেগমেন্ট শেষেই শুরু হয় দিনব্যাপী ইভেন্টের তৃতীয় ও দিনের প্রথম অংশের শেষ আয়োজন। এই পর্বে অতিথি ছিলেন কিঙ্কর আহসান। প্রজন্মের জনপ্রিয় পাঠক নন্দিত লেখক এসেই উপস্থিত সকলকে নিয়ে গেলেন গল্প আর কল্পনার জগতে। সবটুকু সময় ধরে শ্রোতাদের ভাসালেন তার কল্পপাড়ায়; তার শৈশব কৈশোরের স্মৃতি, পড়ালেখা ও বিশ্বিবদ্যালয় জীবন, কর্মঅভিজ্ঞতা জানালেন মোহনীয় কথনে। সত্যিই! লেখক নিজেই জানিয়েছেন তিনি বিশ্বাস করেন এই পৃথিবী শুধু অণু-পরমাণু নিয়েই তৈরী নয়, এই পৃথিবী তৈরী ছোট ছোট হাজারো গল্প দিয়ে। গল্পগুলো প্রতিটি মুখের, প্রতিটি জীবনের। তিনি তাই গল্পের অন্বেষণ করেন এইসব মানুষের মাঝে, তাদের চোখে-মুখে। আর সেই গল্পগুলোকেই কীভাবে এই সৃষ্টিশীল প্রতিভা লেখনীতে প্রকাশ করেন তা পাঠকের অজানা নয়।
দিনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু করেন সিন্দাবাদ ডটকমের সিইও এবং কর্পোরেট কোচ জি এম কামরুল হাসান। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সিভি তৈরী ও বিকাশ; কর্মজীবন শুরু করা ও সফল হবার নানান চিন্তাভাবনা ও কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে নিজেকে মেলে ধরার ব্যাপারে কথা বলেন। বাস্তবজীবনের তথ্য সমৃদ্ধ এই সেশনটি নবীন ও পুরোনো সকল শিক্ষার্থীকে জানিয়েছে কর্মজীবনের পর্দার আড়ালের গল্প ও সফলতার চাবিকাঠি।
এরপরই আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাফিউদ্দিন আহমেদ। বক্তব্যে তিনি উচ্ছ্বল প্রজন্মকে দেখিয়েছেন আনকোরা স্বপ্ন, উদ্যোক্তা হয়ে গড়ে ওঠার আদ্যেপান্ত। দিনের শেষভাগে নতুন স্বপ্ন জগতে ভাসতে ভাসতেই সবাই যুক্ত হয় আয়োজনের সর্বশেষ সেগমেন্টে।
এবার কথা বলা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে। অতিথি ছিলেন স্বনামধন্য লেখক ও গবেষক নূর-আল-আহাদ। সংক্ষিপ্ত সময়ের মাঝে তিনি তুলে ধরেন গবেষণা লেখার সূচনা থেকে উপসংহার।
সবশেষে ক্লাব প্রেসিডেন্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, 'প্রথম বর্ষে আমরা সবাই একটু দ্বিধায় থাকি আমাদের কি করা উচিত তা নিয়ে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই আমাদের এ আয়োজন। একটি তরুণ প্রাণ-কেও যদি আমরা আজকে পথ নির্দেশ করতে পারি, আমাদের এ প্রচেষ্টা সার্থক। প্রতিটি সেগমেন্টের শেষে প্রশ্নপর্বই জানান দিচ্ছিল আয়োজনের সফলতা।'
এরমাঝেই নবীনদের হাজারো স্বপ্ন ও পথের পাথেয় হয়ে শেষ হয় ডিইউ রাইটার্স হাবের এ আয়োজন। করোনাকালীন মহামারীতে এটি যেন উজ্জীবিত করলো হাজারো নবপ্রাণ।
