মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শেষ হলো বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি উৎসব

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২০:০২

কবিতার দীপ্ত উচ্চারণে শেষ হয়েছে আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের ৫ দিনের ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় আবৃত্তি উৎসব’। এই উৎসবের প্রতিপাদ্য ছিলো ‘জন্মের সুবর্ণে জাগো সম্প্রীতির স্বরে/মুক্তির ডাক দেয় পিতা আজও ঘরে ঘরে’। সমাপনী আয়োজনের শুরুতেই ‘অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে’ ও ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে’ কবিতার সম্মেলক কণ্ঠে বাচিকশিল্পী আহকামউল্লাহর সঙ্গে কোলাজ পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পীরা।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপনী আনুষ্ঠানিকতা হয়। 

আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে সমাপনী আয়োজনে অতিথি ছিলেন নসরুল হামিদ ফাউন্ডেশনের পরিচালক সীমা হামিদ। বক্তব্য রাখেন দেশবরেণ্য আবৃত্তিশিল্পীরা। স্বাগত ভাষণ দেন আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘যারা হৃদয় থেকে কবিতার শব্দ উচ্চারণ করেন, তারা কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতে পারেন না। কবিতার সাহায্যে আমরা সমাজের সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস পায়।’

বঙ্গবন্ধু জাতীয় আবৃত্তি উৎসবের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি আবৃত্তির জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আবৃতিশিল্পীরা। ছবি: ইত্তেফাক

আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকামউল্লাহ বলেন, আবৃত্তিশিল্পীদের যুথবদ্ধ আন্দোলনের ফসল হিসেবে আবৃত্তি বর্তমানে শিল্পের মর্যাদা লাভ করেছে। তিনি বলেন, আবৃত্তিশিল্পীদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে ২০১১ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আবৃত্তি বিভাগ যুক্ত করে। এবার আমরা ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবৃত্তি পদক’ দিচ্ছি। এখন থেকে প্রতিবছর আমরা আবৃত্তিশিল্পীরদের সম্মানিত করবো। এ পথে যারা হাঁটছে আমরা তাদের সঙ্গী হওয়ার চেষ্টা করেছি। আগামীতেও থাকবো।

সমাপনী আয়োজনে আবৃত্তিশিল্পীদের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি নসরুল হামিদ ফাউন্ডেশনের পরিচালক সীমা হামিদকে দেওয়া হয় ‘উৎসব স্মারক’। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন ৫০ গুণী শিল্পী।

এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি পাঁচদিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উৎসবে প্রথমবারের মতো ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আবৃত্তি পদক প্রদান’ করা হয়। এছাড়া পাঁচ প্রতিষ্ঠান ও ৫০ ব্যক্তিকে প্রদান করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি স্মারক’। এই উৎসবে দেশের ৬৪ জেলার ৪ হাজারের বেশি আবৃত্তিশিল্পী এই উৎসবে অংশ নেন।

ইত্তেফাক/এএএম