যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ জন্য শুক্রবার যুক্তরাজ্যে ‘দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিরিয়া ও ইরাকের জঙ্গিরা দেশটির ওপর হামলার পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।
ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মে বলেছেন, দেশে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা আছে, তবে হামলা অনিবার্য এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায় নি।
তিনি বলেন, সিরিয়া ও ইরাকের জঙ্গিরা পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে পারে বলে জানা গেছে। এসব হামলার সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীর বিদেশি যোদ্ধারা জড়িত, যারা যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ থেকে সেখানে গিয়ে যুক্ত হয়েছেন। তাই সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তার কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি দলে যোগ দেয়া নাগরিকেরা দেশের জন্য বড় হুমকি। তাই দেশের জঙ্গিদের দমনের জন্য তিনি আইন করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ইসলামিক জঙ্গিবাদ, বিশেষত আইএস দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তার সরকার তার দেশের সন্দেহভাজন নাগরিকদের পাসপোর্ট জব্দ করার পরিকল্পনা করেছে।
যুক্তরাজ্যের পাঁচ শতাধিক নাগরিক ইরাক ও সিরিয়ার রণাঙ্গণে যু্দ্ধ করতে গেছে বলে আগেই জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।
কিছুদিন আগে আইএস এক মার্কিন সাংবাদিককে হত্যা করে এর ভিডিও প্রকাশ করার পর মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিবাদ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে যুক্তরাজ্য।
কারণ আইএস এর যে যোদ্ধা জেমস ফলি নামের ওই সাংবাদিককে গলা কেটে হত্যা করেছিলেন তিনি ব্রিটিশ উচ্চারণে কথা বলছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে চেহারা ঢেকেরাখা অস্ত্রধারী ওই হত্যাকারী ব্রিটেনেরই নাগরিক।
ক্যামেরন বলেন, ইরাক ও সিরিয়ার ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার জন্য নজিরবিহীন হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
ব্রিটেনের যেসব নাগরিক ইরাক ও সিরিয়ায় ভ্রমণে যাচ্ছেন এবং আবার দেশে ফিরে আসছেন তাদেরকে ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন ক্যামেরন।
