চোর সমাচার

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৮

কয়েকদিন আগে ছিল মামাতো ভাইয়ের বিয়ে। মনে মহা আনন্দ নিয়ে মামাবাড়ি উপস্থিত হলাম। পুরো বাড়িতে উত্সবমুখর পরিবেশ। এরমধ্যে বিশাল সাইজের একটা গরু আর বিয়ের সকল সরঞ্জাম কেনা হয়ে গেছে। গ্রামে নাকি চোরের উপদ্রব খুব বেড়েছে। এ কারণে সবাই একটু চিন্তিত। সতর্ক থাকলেও কোন ফাঁকে কী চুরি হয়ে যায়, কেউ বলতে পারে না। তাই বিয়েবাড়িতে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য আমাকে আর মামাতো দু ভাইকে দেওয়া হয়েছে রাতে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব। খুব আগ্রহ নিয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করতে লাগলাম। পরস্পর গল্প-গুজব করতে করতে অনেকটা রাত পার হয়ে গেল। কিন্তু চোরের কোনো হদিস নেই। এদিকে রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হু হু করে বাড়ছে শীত। আবার মশার উপদ্রবে বসেও শান্তি পাচ্ছিলাম না। ভাবলাম চোরের অপেক্ষায় কষ্ট করে বসে না থেকে একটু ঘুমিয়ে নিই। আমরা তিনজনই বারান্দায় কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম। চোখদুটো মাত্র লেগে এসেছে, এমন সময় মামাতো বোন রিমির বিকট চিত্কারে হুড়মুড় করে উঠে ছুটে গেলাম ওর রুমের দিকে। রুমে ঢুকে দেখি রিমি খাটের এক কোণে ভীতু চেহারায় জড়সড় হয়ে বসে আছে। আর অপরদিকের দেয়ালের সঙ্গে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে টাক মাথার বেঁটে একটা লোক। বুঝতে আর বাকি রইল না লোকটা চোর। চেক করতেই তার থলে থেকে বেরিয়ে এলো বিয়ের গয়না। চোরটাকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলা হলো। সকালে গ্রামের সবাই আসতে লাগল চোর দেখার জন্য। চোরটাকে ধরিয়ে দেওয়ার কারণে রিমির প্রশংসা করতে লাগল সবাই। আগে যাদের চুরি হয়েছে তারা আচ্ছামত কিল-ঘুসি মারতে লাগল চোরকে। গণপিটুনিও হলো কয়েক দফা। কিন্তু এত মার খাওয়ার পরও চোরকে দুঃখিত মনে হলো না। কোনো কিছুর প্রাপ্তিতে তার মনটা যেন খুব প্রফুল্ল। আমার সন্দেহ হলো। রিমিকে আড়ালে নিয়ে বললাম, ‘তুই ঘুমালে তো দুনিয়ার কোনো খবর থাকে না। তাহলে চোরের উপস্থিতি টের পেয়েছিস কিভাবে?’

বলতে চায় না। খুব জোড়াজুড়ি করার পর কাউকে না বলার শর্তে সলজ্জ ভঙিতে বলল, ‘চোরটা গহনা চুরি করার পর মনে হয় আমার টোল পড়া গালটা দেখে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেনি। তাই আমার গালে এসে চুমু খায়। কিন্তু তার শক্ত মোচ আমার গালে তারকাটার মতো এসে বিঁধে। ব্যথায় তখনি জেগে উঠে ভয়ে চিত্কার দিয়ে উঠি।’

ওর কথা শুনে হেসে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা আমার। খুব করে অনুরোধ করায় কাউকে আর জানানো হয়নি সেদিনের আসল ঘটনাটা।

সাভার, ঢাকা