ইংল্যান্ডকে লজ্জায় ডুবালো ভারত

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৬:৫৪
 
 
এবার ইংল্যান্ডকে লজ্জায় ডুবালো ভারত। এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়াডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল সফরকারীরা। এর আগে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ভারতকে লজ্জায় ডুবিয়েছিল স্বাগতিকরা।
পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে বার্মিংহামে ইংলিশদের ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল ভারত। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করা ইংল্যান্ড ২০৬ রানেই গুটিয়ে যায়। এরপর ওপেনার আজিঙ্কা রাহানের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির সুবাদে ১১৭ বল বাকী রেখেই জয় তুলে নেয় ধোনির দল। ফলে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো ওয়ানডের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত।
এর আগে পাঁচ ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেই জয় পায় ভারত। কিন্তু শেষ তিনটি ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ভারতকে লজ্জায় ডুবায় ইংলিশরা।
ওয়ান ডে সিরিজেও প্রথমটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে নিজেদের ঝলক দেখায় ভারত। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে তোয়াক্কা না করে ঐ ম্যাচ দুটি জিতে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে লিড নেয় সফরকারীরা। তাই এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ পকেটে ভরার দারুণ সুযোগ তৈরি হয় ধাৈনি-কোহলিদের সামনে।
সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে বার্মিংহামে টস ভাগ্যে জিতেই ইংল্যান্ডের হাতে ব্যাট তুলে দেয় ভারত। কারণ রান তাড়া করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে ধোনিরা। ব্যাট করতে নেমে বেকাদায় পড়ে স্বাগতিকরা। ২৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ বড় করে ফেলে ইংলিশরা। অধিনায়ক অ্যালিষ্টার কুক ৯ ও অ্যালেক্স হেলস ৬ রানে ভুবেনশ্বর কুমারের শিকার হন। আর গ্যারি ব্যালেন্সকে ৭ রানে ফেরান মোহাম্মদ সামি।
তবে মিডল-অর্ডারে সেই ধাক্কাটা ভালোভাবেই সামাল দেন জো রুট, ইয়োইন মরগান ও মঈন আলি। রুট ৪৪ ও মরগান ৩২ রানে ফিরলেও, ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মঈন আলি। দ্রুত রান তোলা মঈন শেষপর্যন্ত থামেন ৬৭ রানে। তার ৫০ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার মার ছিল। স্বাগতিকদের অল্প রানে আটকে রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন ভারতের তিন বোলার। সামি ৩, ভুবেনশ্বর ও রবীন্দ্র জাদেজা ২টি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে দুই ওপেনারের ব্যাটিং নৈপূণ্যে টার্গেটটা আরও সহজ হয়ে পড়ে ভারতের সামনে। শুরু থেকেই বোলারদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকেন শিখর ধাওয়ান ও আজিঙ্কা রাহানে। ১৭ দশমিক ৪ বল মোকাবেলা করে দলকে তিন অংকের কোঠা স্পর্শ করান তারা। এখানেই থেমে থাকেননি দু’ওপেনার। নিজেদের ব্যাটিং কারিশমা দেখিয়ে জুটির স্কোরটা ১৮৩ রানে নিয়ে যান ধাওয়ান-রাহানে। এরইমধ্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো সেঞ্চুরির দেখা পান রাহানে। ৩৩তম ম্যাচে এসে তিন অংকের দেখা পেলেন তিনি।
জয় থেকে ২৪ রান দূরে থাকতে রাহানে ফিরে গেলেও, বিরাট কোহলিকে নিয়ে দলকে কাক্ষিত লক্ষ্যে পৌছে দেন ধাওয়ান। তবে র্দুভাগ্য ধাওয়ানের। মাত্র ৩ রানের জন্য ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। ৯৭ রানে অপরাজিত থাকতে হয়েছে ধাওয়ানকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ইংল্যান্ড ২০৬/১০, ৪৯.৩ ওভার (মঈন আলি ৬৭, জো রুট ৪৪, মোহাম্মদ সামি ৩/২৮)।
ভারত ২১২/১, ৩০.৩ ওভার (আজিঙ্কা রাহানে ১০৬, শিখর ধাওয়ান ৯৭*, হ্যারি গার্নি ১/৫১)।
ফল : ভারত ৯ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : আজিঙ্কা রাহানে (ভারত)।