গেল আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট হিসেবে (গত বছরের একই সময়ের তুলনায়) মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশে। জুলাই মাসে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাত্ এক মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ হিসেবেও মূল্যস্ফীতি কমেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালানাগাদ পরিসংখ্যানে এ সব তথ্য উঠে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাংবাদিক সম্মেলনে এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। এ ছাড়া পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম, বিবিএস মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগস্ট মাসে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ সময়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। তাছাড়া অঞ্চল ভিত্তিক হিসাবে গ্রামাঞ্চলে ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ ও শহর অঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চাল, মাছ, মাংস, ডিম, শাক-সবজি, ফল, মসলা, দুধ এবং দুগ্ধ জাতীয় দ্রব্যাদি, অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী ও তামাক জাতীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধির কারণে জুলাই এর তুলনায় আগস্টে খাদ্য সামগ্রী উপখাতে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ দাম বেড়েছে। তবে একই সময়ে মজুরির হারও বেড়েছে। গত দুই মাসে জাতীয় মজুরি হার বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ দশমিক ৪৭ ও ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিদেশে খাদ্য পণ্যের দাম অনেক কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে আমাদের আমদানিকৃত খাদ্যদ্রব্যের উপর। ফলে কমে গেছে আমাদের মূল্যস্ফীতি হার। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমলে সামনে মূল্যস্ফীতি আরও কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বন্যায় মূল্যস্ফীতির উপর কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বন্যা প্রতি বছরের ঘটনা। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী না হলে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়বে না। যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
ইঅ/চৌফে/শ৩০১
