সিরডাপ মিলনায়তনে সেমিনারে বক্তারা

ইউরোপের জিএসপি সংশোধন বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক নয়

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯:৫১
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জিএসপিতে (অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা) পরিবর্তন আনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত কিছুটা প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। তবে সার্বিক বিবেচনায় তা উদ্বেগজনক নয়। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সেমিনারে বক্তারা এমন মত দেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমপ্রতি জিএসপির শর্তে কিছু সংশোধন এনেছে। বাংলাদেশে এর প্রভাব কী হতে পারে তা নিয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই)। বক্তারা বলেন, জিএসপির পূর্ণাঙ্গ সুবিধা বাংলাদেশ নিতে পারেনি। গার্মেন্টস পণ্যে মূল্য সংযোজন কম হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান ও ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী ছাড়াও গার্মেন্টস উদ্যোক্তা ও ইইউর প্রতিনিধিরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফটিআইর পরিচালক ড. মোস্তফা আবিদ খান।
জিএসপি হলো ইইউভুক্ত দেশগুলোয় শর্ত সাপেক্ষে শুল্কমুক্ত বাজার-সুবিধা পাওয়ার পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত বিভিন্ন দেশ ইইউতে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধায় পণ্য রপ্তানি করতে পারে। জিএসপির সংশোধনে বাংলাদেশী তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছিল।
আলোচনায় অংশ নিয়ে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম গার্মেন্টস খাতের বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে নানামূখী অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এসব কারণে বাংলাদেশের পোশাক খাত কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। পোশাক কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বলা হলেও ইউরোপ ও আমেরিকার বায়ারদের পরীক্ষায় মাত্র ২ শতাংশের কম কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বাংলাদেশে ইইউর ডেলিগেশনের প্রতিনিধি ফ্রেডরিক মেডুরাড রানা প্লাজা পরবর্তী সময়ে কমপ্লায়েন্সের উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সামপ্রতিক তোবা গ্রুপের শ্রমিকের বেতনের সংকট সমাধানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বেতন প্রদানে কারখানা মালিকের জমি বিক্রি করতে হয়েছে। মালিকপক্ষের সংগঠন টাকা ব্যবস্থা করে শ্রমিকদের দিয়েছে। এটি বড় ধরণের পরিবর্তন।
ড. মসিউর রহমান বলেন, পৃথিবীর কোন দেশেই সব শিল্প কারখানা নিরাপদ নয়। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের পরীক্ষায় মাত্র ২ শতাংশেরও কম কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কারখানার মানোন্নয়নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এখন উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন পণ্যের প্রতি মনযোগী হতে হবে। সেই সঙ্গে উত্পাদনশীলতাও বাড়াতে হবে।
বিএফটিআইর প্রধান নির্বাহী ড. মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশে ইইউ ডেলিগেশনের ট্রেড এডভাইজার জিল্লুল হাই রাজি, বিকেএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।
 
 
ইঅ/চৌফে/শ৩৫০