মশিউর ভাইয়ের তারুণ্য

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৫৪

প্রিয় মশিউর ভাই ভালোবাসে সদাই তারুণ্য থাকতে। তাই তো তার হাবভাবেও পাওয়া যায় তারুণ্যের গন্ধ। এমনই একদিন মশিউর পেল একটি ‘পার্টির’ দাওয়াত। তো তিনি যথারীতি তৈরি হলেন তারুণ্যের ছোঁয়ায়। বায়ান্ন বছর বয়স কমে তাকে লাগছে ছাব্বিশ বছরের ছোকরা। তো এভাবেই তিনি চললেন তার প্রাপ্ত দাওয়াতের দিকে। হাস্যোজ্জ্বল মুখ ও টাইট-ফিটিং গেঞ্জিতে শরীরের মাংসপেশিগুলো যেন বেরিয়ে আসছে। সঙ্গে ব্যাকব্রাশ চুল। সবমিলিয়ে হেলেদুলে মনের সুখে যেই না তিনি গেটের দিকে যাবেন, এমন সময় কে যেন ডেকে উঠল, ‘ও ভাই, মইটা একটু উঁচু করে ধরেন না! অনেক ক্ষণ ধরে গাছে লাইট বাঁধতে এসে ঝুলে আছি। সকলেই এখানে বয়সে বড়, কাকে বলব বলব করে বলা হচ্ছে না। একমাত্র আপনাকে দেখেই মনে হলো অনুরোধটা রাখা যায়।’ বিপদে পড়া লোকটির এসব কথা শুনে মশিউর ভাইয়ের মধ্যে আবারও জেগে উঠল তারুণ্যের  উদ্দীপনা। চুলের কপাটে দশ আঙুল চালিয়েই যেই না উঁচু করতে গেল মইটা অমনি কিসের যেন একটা মড়াত্ আওয়াজ শোনা গেল। গাছের ওপরে থাকা লোকটা আশপাশে তাকাচ্ছে আর বোঝার চেষ্টা করছে কী হলো। আর ওদিকে মশিউর ভাই যে নিচু হয়েছে তো আর উঠছেই না। মইয়ের ভারে বেরিয়ে গেল তার সকল তারুণ্য। ভাঙা হাড়ে ভণ্ডুল হলো তার দাওয়াত খাওয়া। এখন কে তাকে বাড়ি নিয়ে যাবে এ কথায় ভাবছেন। আর গাছে থাকা লোকটি মনে মনে বলতে লাগল—উপরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট!

 

জেলরোড, যশোর

 

 

 

বইমেলা

লেখক

 

—ভাই এক শ’টা টাকা দে। বইমেলায় যামু।

—শুনলাম, তোর বই মেলায় বেস্টসেলার। আর তোর পকেটে মেলায় যাওয়ার টাকা নাই?

—হ রে, ভাই, পকেট একদম গড়ের মাঠ।

—বুঝতে পারছি, প্রকাশকের পকেট গরম। তোর পকেটের অবস্থা চরম!

 

প্রকাশক

 

—ঘোষণা দিছি, আবুলের বই বেস্ট সেলার। কিন্তু তিন শ কপি থেকে তো পঞ্চাশ কপিও বেচতে পারি নাই। এই ঘোষণায় যদি আরও কয়েকখানা বই সেল হয়!

 

পাঠক

 

—ধুরো, লেখক রে মেলার এককোনায় দেখছি। দেখতে একদম টেলি সামাদের মতো। একটু গ্ল্যামার না থাকলে হয়! বই কিনে লেখকের সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিতে হইব না?

 

ফেক আইডি

 

ফেসবুকে পরিচয়। ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার দেখেই প্রেম।

ফেস টু ফেস হয়নি কেউ। তবুও মনের শোকেসে একে অন্যকে সাজিয়ে ফেলল।

মেয়েটি ছুঁড়ি। দেখতে সুন্দরী।

ছোঁড়া কয়, ‘ওরে মোর পরি।’

ছুঁড়ি কয়, ‘আহা লাজে মরি।’

কিছুদিন পর দুজনার দেখা হলো পার্কে।

ছুঁড়িকে দেখে ছোঁড়া থমকে গেল। ছুঁড়ির বয়স দুই কুড়ি পার হতে চলল!

ছোঁড়াকে দেখে বুড়ি বিষম খেল। ছোঁড়ার বয়স এখনো কুড়ি পার হয়নি!

বুড়ি ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারে তার ছুঁড়ি জীবনের ছবি ব্যবহার করেছিল। এতে করে বর্তমানের বয়সটাকে লুকিয়েছিল। মানে, এককথায় কমিয়েছিল।

ছোঁড়া ফটোশপের কারসাজিতে নিজেকে যুবকে রূপান্তরিত করেছিল। বর্তমানের বয়সটাকে একই কায়দায় বাড়িয়েছিল।

দুজনেই ভেক ধরেছিল। বলেছিল মিথ্যে। লুকিয়েছিল সত্য। কারণ দুজনেরই ওটা ফেক আইডি ছিল!