পরিসংখ্যান বলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট জয় আর দুটি ড্র। ১৪ বছরের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের বড় পরিসরের এই ফরম্যাটে জয়ের সংখ্যাই যেখানে চারটি সেখানে ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্সকে বেশ উজ্জ্বলই বলা যায়। চার বছর আগে জয় পাওয়া সেই ম্যাচ দুটি অবশ্য খর্ব শক্তির এক দলের বিপক্ষে। তবে, দু:সময়ে সেই স্মৃতিকেই শক্তি মানা ছাড়া গতি নেই বাংলাদেশ দলের সামনে।
চার বছর আগের সেই দলটির সাথে আজকের ওয়েস্ট ইন্ডিজের পার্থক্যটাও আকাশচুম্বি। বাংলাদেশ দলের সাথেও আছে অভিজ্ঞতার পার্থক্য। অভিজ্ঞতায় এগিয়ে স্বাগতিকরাই। তাই অনেকটা আন্ডারডগ হয়েই আগামীকাল দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। কিংসটাউনে আর্নোস ভেলের মাঠে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায়।
বাংলাদেশের জন্য আরেকটা প্রেরণা হতে পারে এই ভেন্যু। চার বছর আগে এই মাঠেই প্রথম টেস্ট জিতেছিল সাকিব-মুশফিকরা্ সব মিলিয়ে এই ভেন্যুতে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তৃতীয় টেস্ট। এর মধ্যে সর্বশেষটি ছিল ওই বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচটিই।
কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশের শক্তি সামান্যই। কোচ হাতুরুসিংহেও নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা মানছেন, ‘প্রথমত কন্ডিশনটা আমাদের পক্ষে নয়। তার উপর বোলিংয়ে কিছুটা ঘাটতি আমাদের থাকছে। মূল কাজটা করতে হবে ব্যাটসম্যানদের। তারপরও আমি খুব বেশি আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। বাস্তববাদী হলে এই দুই টেস্ট থেকে ড্রয়ের বেশি কিছু আশা করাই ঠিক নয়।’
এই সমস্যা তো আছেই। তার সাথে যুক্ত হচ্ছে আত্মবিশ্বাসের অভাব। সামপ্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য যে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের কাছে রীতিমত সোনার হরিনে পরিনত হয়েছে। সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচই তারা জিতেছিল গত বছর নভেম্বরে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে হোয়াইট করার ম্যাচের পর থেকেই শুরু ব্যর্থতার মিছিল।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ, এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজের পর এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধ কন্ডিশনেও অব্যহত আছে ব্যর্থতা। ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি ভেসে যায় বৃষ্টিতে। এবার শুরু টেস্টের লড়াই!
এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের লক্ষ্যই আবার ড্র। একটা জয়ের জন্য তাই সমর্থকদের অপেক্ষা করা ছাড়া ভিন্ন কোন পথ খোলা নেই!
ইঅ/চৌফে/শ৩০৩
