একুশের নতুন বই

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২৯

আমার আজব ঘোড়া

মিনার মনসুর

কথাপ্রকাশ

প্রচ্ছদ : শিল্পী সুনীল দাসের চিত্রকর্ম অবলম্বনে সোহেল আশরাফ

দাম : ১০০ টাকা

 

আমার ঘোড়াটি বড়ই অস্থির। কী যেন বলতে চায়। কিন্তু হেভি মেটালের শব্দে সব ঢাকা পড়ে যায়। ম্যাডোনা নাচছেন।

কবিতাগুলো পড়তে পড়তে বারবার থমকে যেতে হয়। খুব চেনা মনে হয় ঘোড়াটিকে। মনে হয়, এই তো সেই ঘোড়া যার সঙ্গে আমাদের প্রতিদিন দেখা হয় গলি-ঘিঞ্জিময় মানুষে-যানবাহনে ঠাসা বেপরোয়া, রুদ্ধশ্বাস ও আত্মহত্যাপ্রবণ এই মহানগরে। চেনা মানুষ চেনা চিত্রকল্প—তনুকে দেখি, ত্বকীকে দেখি, ‘জব্বারের বলী খেলা’ দেখি, শামসুর রাহমানের জন্মস্থান ‘নরসিংদীর রায়পুরা’ থেকে ‘টেঁটা হাতে’ ছুটে আসতে দেখি ‘টেঁটাবিদ্ধ বীভত্স মুখটি’কে; মনে হয় হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে দেওয়া যাবে! কিন্তু বিভ্রম কাটতে সময় লাগে না—যখন আমরা ‘গুহার গর্জন শুনি’; ‘শিশ্নসর্বস্ব বলীদের দাপাদাপি’ দেখি ধরিত্রীজুড়ে এবং ঘোড়াটির অবসন্ন দেহ থেকে চুয়ে চুয়ে পড়তে দেখি ‘কুরুক্ষেত্রের রক্ত আর অশ্রুর লবণ’।

মিনার মনসুরের কবিতা কেবল শব্দ নিয়ে কানামাছি খেলা নয়, নয় অর্বাচীন আবেগের উচ্ছ্বাস। তিনি নিছক কবিতার জন্যে কবিতা লেখেন না; খ্যাতি কিংবা জনতুষ্টির জন্যে তো নয়ই। তিনি কবিতা লেখেন অন্তর্গত অন্যরকম এক দায়বদ্ধতা থেকে—যার ভার বহন বিবেকেরও সাধ্যাতীত। বস্তুত মানবসমগ্রের অবিনাশী হূদয়ের চিরকালীন আকুতি ও আর্তনাদকে তিনি অবলীলায় ধারণ করেন তাঁর কবিতায়। নিখাদ তাঁর উচ্চারণ। তাই সমকালের উচ্চমার্গীয় চতুরতা ও ভণ্ডামি থেকে তাঁকে—তাঁর কবিতাকে আলাদাভাবে চেনা যায়। চেনা যাবে ‘আমার আজব ঘোড়া’কেও—যেখানে তিনি ক্রমাগত অতিক্রম করে যান নিজেকেও।