গঙ্গাচড়ায় সরিষার সাথে মৌ চাষ

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৮

সরষে চাষের সাথে মৌ চাষ। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। গঙ্গাচড়ায় এবছর সরষে চাষ কমেছে। কালের পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে সরষে চাষ। তুলনামূলকভাবে অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভ কম হওয়ার কারণে কৃষক সরষের পরিবর্তে অন্য ফসল আবাদ করে থাকে। এক সময় গ্রামাঞ্চলে কৃষকের বাড়িতে খাঁটি সরেষে তেলের কদর ছিল খুব বেশি। সরষে ফুলে ভরে ওঠেছে বিভিন্ন এলাকা। হলদে রঙয়ের সরষে ফুল প্রকৃতিকে করেছে অপরূপ। রঙ-বেরঙয়ের প্রজাপতি আর মৌমাছির গুণ গুন শব্দ আকৃষ্ট করছে সবাইকে। সরষে ফুলের মৌ মৌ গন্ধ ভরে তুলেছে মনকে। তারপরও গ্রামাঞ্চলে খুব সহজে চোখে পড়ে সরষে ক্ষেত। হলুদ ফুলে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করে। তিস্তার চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকায় এ বছর সরষে চাষ হয়েছে।

উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের ওমর গ্রামের আজাহারুল এ বছর ৩০ শতক, মতিয়ার ৬৬, বিজয় ১৬ শতক জমিতে সরষে চাষ করেছে। কৃষকরা জানান, আবহাওয়া ভাল থাকলে ফলন ভাল হবে। গঙ্গাচড়া মধ্যপাড়া এলাকার কৃষক সুজন মিয়া বলেন, এ পর্যন্ত সরষার পাশাপাশি ১২ কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন। যার বাজার মূল্য ৬ হাজার টাকা। কৃষকরা জানান, সরষে আবাদ অনেক কমেছে। লাভ কম আর বাজার জাত সমস্যার কারণে আগের মতন আর সরষে চাষে আগ্রহ নেই কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১৮৫ হেক্টর জমিতে সরষে আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ২৫৫ হেক্টর। কমেছে ৭০ হেক্টর জমিতে। সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, মৌমাছি চাষে সঠিক ভাবে পরাগায়নের মাধ্যমে সরষে ফলন কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ ভাগ বাড়বে। তিনি বলেন, কৃষক পর্যায়ে ডাল-তেল মসলা জাতীয় বীজ উত্পাদন, সংরক্ষণও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৩ জন কৃষককে মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, অন্যান্য ফসলের চেয়ে সরষে আবাদ লাভ কম হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ কমেছে। আমন আবাদের পর বারি-০৯, ১৪, ১৫ স্বল্পমেয়াদি জাতের সরষে আবাদ করলে সেই জমিতে বোরো আবাদও করা যাবে। তিনি আরও বলেন, সরষে চাষের সাথে মৌমাছি চাষ করলে সরষে ফলন বাড়বে। সেই সাথে মধু সংগ্রহ করে লাভবান হওয়া যাবে।