ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ও কুরআনে হাফেজ কাওসার আহমেদের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়া হলো না। গত বুধবার রাতে রাজধানীর চকবাজারে আগুনে পুড়ে নিহত হয় কাওসার। একই দিন চকবাজার ট্র্যাজেডির শিকার পাবনার বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের সোনাপদ্মা গ্রামের ইমতিয়াজ। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো সংবাদ:
অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়া হলো না কাওসারের
হোমনা (কুমিল্লা):ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ও কুরআনে হাফেজ কাওসার আহমেদের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়া হলো না। গরিব ঘরে জন্ম নেওয়া কাওসারের স্ত্রী ও মা বাবার স্বপ্ন ছিল সে লেখাপড়া শেষে ভালো চাকরি করে পরিবারের সচ্ছলতা আনবে। কিন্তু তা আর হলো না। তাদের স্বপ্ন স্বপ্নই রইল। গত বুধবার রাতে রাজধানীর চকবাজারে আগুনে পুড়ে নিহত হয় কাওসার। নিহত কাওসার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের ডা. খলিলুর রহমানের পুত্র। সে গত দুই বছর আগে ছাত্র অবস্থায়ই বিয়ে করেন। তার আবদুল্লাহ এবং নুসাইবা নামে ১১ মাস বয়সী দুটি জমজ সন্তান রয়েছে। নিজের পড়াশোনার খরচ ও পরিবারের ভরণ-পোষণ করতে হতো তাকেই। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি চকবাজারে একটি ওষুধের দোকান চালাতো সে। তার এ অকাল মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজনসহ পুরো উপজেলায় চলছে শোকের মাতম। এদিকে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে স্থানীয় এমপি সেলিমা আহমাদ ছুটে যান তার বাড়িতে। এ সময় এমপি সেলিমা আহমাদ তার স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়ে তাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। এ ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, ইউএনও আজগর আলী, ওসি সৈয়দ মোঃ ফজলে রাব্বি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম মোল্লাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ স্বজনরা তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তার বাড়িতে আসছেন। ইউএনও আজগর আলী জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেন। গত শুক্রবার শ্রীপুর গ্রামে তার নামাজের জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না রাসুর
বেড়া (পাবনা) ছেলেকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন পূরণ হলো না নজরুল ইসলামের। তার আগেই আগুনে পুড়ে মর্মান্তিকভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো ডেন্টাল শেষবর্ষে পড়া ইমতিয়াজ আহমেদ রাসুর। চকবাজার ট্র্যাজেডির শিকার পাবনার বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের সোনাপদ্মা গ্রামের ইমতিয়াজ (২৫)। তার বাড়িতে এখন শুধুই শোকের মাতম। তার বাবা নতুন ভারেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। চকবাজারেই একটি প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয় সে। শেষবর্ষে এসে একটি ক্লিনিকে প্রাকটিসও শুরু করেছিল। আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা। তারপরেই পুরোপুরি ডাক্তার হিসেবে জীবন শুরু করতে পারতো। কিন্তু আগুন তার স্বপ্ন পূরণ হতে দিল না। বৃহস্পতিবার রাতেই তার লাশ শনাক্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত শুক্রবার সকালে নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
