গৌরীপুরে টানা বর্ষণ: সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১২:৪৮
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সপ্তাহব্যাপী টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলার পৌরসভাসহ ১১ ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় হাজার হেক্টর রোপা আমন ফসল। মৎস্য খামারের পকুর পানিতে তলিয়ে ভেসে গেছে অর্ধ কোটি টাকার মাছ।
 
অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ড্রেন না থাকার কারণে পৌর শহরের কালিপুর মধ্যম তরফ, শান্তিবাগ, পূর্বদাপুনিয়া, খেলার মাঠ, নূতন বাজার খলিফাপট্টি, ইসলামাবাদ, হাতেম আলী সড়ক, পাছারকান্দায় শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এসব পরিবারের রান্নাবান্না করাও বন্ধ হয়ে গেছে।
 
অসমাপ্ত ড্রেনের পানিতে ৫/৬টি পরিবারের পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। মধ্যম তরফের ১০/১২টি পরিবারের ঘরের মেঝেতে পানি উঠায় অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া শহরের যত্রতত্র অপরিকল্পিত বাসা-বাড়ি  নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চরম জলাবদ্ধতার মধ্যে পড়েছে আড়াই শতাধিক পরিবার। উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজার, গোবিন্দপুর বাজার, নাহড়া বাজার, শাহগঞ্জ বাজার, ডৌহাখলা বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে দৈনন্দিন ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এছাড়া প্রবল বর্ষণের ফলে শ্রমিকশ্রেণী কাজে যেতে পারছে না। বর্ষণের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি অফিস জানায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে রামগোপালপুর ভাংনামারী, সিধলা, সহনাটী, গৌরীপুর ইউনিয়ন, অচিন্তপুর, মাওহা ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চলের ১ হাজার হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক মৎস্য খামারের পুকুর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে ভেসে গেছে প্রায় লক্ষাধিক টাকার রুই, কাতল, কৈ, শিং, মাগুর গোলসাসহ নানা প্রজাতির মাছ।
 
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দৌলতউল্লাহ মুরাদ জানিয়েছেন, খামারে মাছের ক্ষতি নির্ণয় ও ক্ষতি রোধে মৎস্য অফিসের লোকজন সার্বক্ষণিক খামার মালিকদের সহযোগিতায় রয়েছেন।