‌'দুবাই থেকে বাংলাদেশ ঘুরে টাকা বর্ধমানে'

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৪, ২০:৩৩





বর্ধমান বিস্ফোরণের জেহাদি-নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে আছে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দূরের দুবাইয়েও। এবার এমনই তথ্য হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের।
তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, খাগড়াগড়ের হাসান চৌধুরীর বাড়ির দোতলায় যারা আইইডি (ইম্প্রোভাইজ্ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বানাত, তারা নিয়মিত মাসোহারা পেত। আর সেই টাকা বাংলাদেশি কিছু ব্যবসায়ীর বদৌলতে হাওয়ালার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে বাংলাদেশ হয়ে বর্ধমানে পৌঁছত। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
গোয়েন্দাদের ধারণা, আইইডি তৈরির জন্য মাল-মশলা, রাসায়নিক দ্রব্য ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজনীয় অর্থও বিদেশ থেকে এসেছে।

আবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি সূত্রে জানা যায়, শুধু বাংলাদেশ নয়, নামনি অসম থেকেও নিয়মিত লোকজন আসত খাগড়াগড়ে। মূলত কোকরাঝোড়, বরপেটা থেকে লোক এসে প্রশিক্ষণ দিত শাকিলের সঙ্গীদের। জেহাদ নিয়ে 'মগজধোলাই' করত।

রাজ্য গোয়েন্দা দফতরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'ঠিক যেন মনে হচ্ছে, পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানো হচ্ছে। বিস্ফোরণ না হলে বোঝাই যেত না এরা (জঙ্গিরা) কতদূর পর্যন্ত শিকড় ছড়িয়েছে। এখন ভাবছি, ভাগ্যিস বিস্ফোরণটা হয়েছিল!'

জঙ্গিদের সম্ভাব্য আস্তানা হিসেবে এখন গোয়েন্দা-নজরে রয়েছে বর্ধমান শহরের আরও কিছু এলাকা। তদন্তকারীদের অনুমান, এই জঙ্গি-নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সবিস্তার জানতে হলে প্রধান অভিযুক্ত পলাতক কওসরকে হাতে পেতেই হবে।

তবে মঙ্গলবার রাত ও বুধবার দিনভরের তদন্তে বিস্ফোরণস্থল থেকে মাত্র আধ কিলোমিটার দূরে জেহাদিদের আরও দু’টি আস্তানার সন্ধান মিলেছে। যার মধ্যে বর্ধমান জেলা সদরের বাবুরবাগের একটি ভাড়াবাড়িও রয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, কওসর ওখানেই থাকত।

কওসরের ঘনিষ্ঠ বীরভূমের দুই বাসিন্দা কাদের এবং মহম্মদ আলির নামও জানতে পেরেছে সিআইডি।
আরো জানা গেছে, খাগড়াগড় বিস্ফোরণস্থল থেকে যে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে সেটির রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে নদিয়া জেলায়। ঐ মোটরসাইকলেই বীরভূমের কীর্ণাহারে যাতায়াত করত কাদের।
এর পাশাপাশি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসনাবাদ থেকে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের এক নারী সঙ্গীরও খোঁজ চলছে। সাতক্ষীরা জেলার পাঁচপোতা গ্রামের বাসিন্দা ঐ দুই যুবকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। তারা প্রায় আট মাস আগে পালিয়ে ভারতে আসে এবং বাদুড়িয়ার ঈশ্বরীগাছা এবং স্বরূপনগরে আস্তানা গড়ে।
আটককৃতরা হলেন- মহম্মদ ফারুখ হোসেন সর্দার ও মহম্মদ সাদ্দাম হোসেন শেখ সর্দার। তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকার ভারতীয় জাল নোট পাওয়া গেছে। এই দু’জনের সঙ্গে বর্ধমান বিস্ফোরণের যোগ আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ দিকে সিআইডি জানতে পেরেছে, প্রথমে নিজেকে নিরীহ বলে দাবি করলেও খাগড়াগড় বিস্ফোরণে আহত আব্দুল হাকিম একজন বিস্ফোরক এবং বোমা বিশেষজ্ঞ। মুর্শিদাবাদের লালগোলার মোকামনগরের একটি মাদ্রাসায় গিয়ে তিনি বেশ কয়েক বার জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এমনকী, সন্দেহভাজন কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ করতেন তিনি। তার স্ত্রী আলিমা বিবিও জেএমবি-র সদস্য বলে সন্দেহ করছে সিআইডি।
ঐ দিন বীরভূমের মহম্মদবাজারের দেউচা গ্রামে আব্দুল হাকিমের বাড়িতে সিআইডির একটি দল যায়। একই দিন বিকেলে খাগড়াগড় থেকে ধৃত আলিমা ও রাজিয়া বিবিকে ভবানী ভবনে আনা হয়। আলিমার কাছ থেকে পাওয়া সূত্র ধরেই বাবুরবাগের আস্তানা সম্পর্কে জানতে পেরেছে পুলিশ।