মা ও তিন মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা মামলা

এখনো গ্রেপ্তার হয়নি সন্দেহভাজন খুনি জাহাঙ্গীর

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৪, ০৬:২১

পবিত্র ঈদুল আজহার দিন গত সোমবার দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী মজিবর রহমানের স্ত্রী হাসনা বেগম এবং তাঁর তিন মেয়ে মনিরা আক্তার (১৪), মিম আক্তার (১০) ও মলি আক্তারকে (৭) ঘরের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় পেট্রলের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। পুলিশ ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বখাটে জাহাঙ্গীর আলম বিয়ের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আক্রোশের বশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন খুনি জাহাঙ্গীর আলমকে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার করা জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মো. হানিফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার মো. হানিফকে টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিমের আদালতে (ঙ অঞ্চল) হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাকিম লুনা ফেরদৌস তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে একই ঘটনায় আটক রিকশাচালক আলী হোসেন গতকাল একই আদালতে হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাঁর জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে আলী হোসেন বলেন, তিনি ২০০ টাকা ভাড়ায় স্থানীয় একটি ফিলিং স্টেশন থেকে জাহাঙ্গীরের জন্য পেট্রল বহন করে আনেন। হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে গতকালও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। তাঁরা দ্রুত দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর একই গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান আসামি করে নিহত গৃহবধূ হাসনা বেগমের ভাই মোফাজ্জল হোসেন মঙ্গলবার রাতে মির্জাপুর থানায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে গত বুধবার উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ইন্নত খাঁ চালা থেকে পুলিশ জাহাঙ্গীরের ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত অন্য বাহিনীর সদস্যরাও সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা জাহাঙ্গীরের চাচি নাছিমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জাহাঙ্গীরের বন্ধু সুশান্ত কুমার ও খালাতো ভাই বাদশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে বলে জানান এসআই।
সরেজমিন: গতকাল বৃহস্পতিবার সোহাগপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পরও নানা স্থান থেকে শত শত মানুষ পোড়া দালানটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। ভবনটির সামনে দাঁড়িয়ে অনেককে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। গতকাল গ্রামের ইসমাইল হোসেন ও আবদুস সামাদসহ আরও কয়েকজন বলেন, গ্রামবাসীর কেউ জাহাঙ্গীরের বখাটেপনার প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিত সে। এতে লোকজন আর মুখ খুলতেন না।
ছেলের জীবন নিয়ে শঙ্কা: ছেলের বউ ও তিন নাতনিকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে আছেন হাসনার শ্বশুর বৃদ্ধ চান মিয়া ফকির ও শাশুড়ি জবা খাতুন। ঘটনার পর থেকেই এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা হয়ে আছেন বাকরুদ্ধ। কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে শুধু ফ্যাল-ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। পীড়াপীড়ির পর জবা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওরা আমার ছেলেকেও মেরে ফেলবে।’