লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে জেলার রায়পুরে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে থানা সংলগ্ন ট্রাফিকমোড় অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় তারা নতুন বাজারে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে হামলা চালিয়ে একটি পিকআপ ও ৬টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ৮টার দিকে জেলা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রায়পুর থানার সামনে দায়িত্বরত অবস্থায় ‘নিজের’ বন্দুকের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে জেলা পুলিশ লাইনের এএসআই আবদুল জলিল নিহত হন। তবে তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতের রায়পুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মাহফুজুর রহমান বলেন, বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তাদের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ৩টি অফিস কক্ষ, ৬টি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপভ্যান জ্বালিয়ে দেয়। এ ঘটনায় এজিএম মফিজ আহম্মেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫শ’ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত এএসআই আবদুল জলিল লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ লাইনের সশস্ত্র শাখায় কর্মরত ছিলেন। বিদ্যুতের দাবিতে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশের সাথে তিনিও রায়পুর থানা এলাকায় ডিউটিতে যান। রাতে রায়পুর থানার সামনে চা পানরত অবস্থায় অসাবধানতাবসত নিজ বন্দুকের গুলি বের হয়ে তার বুকে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে আবদুল জলিল মারা যান। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত জলিল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ৪নং আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের হরিভল্লবপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে।
রায়পুর থানার ওসি (তদন্ত) সোলায়মান চৌধুরী বলেন, আবদুল জলিল কীভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন সে বিষয়টি তদন্তাধীন। তিনি আরও বলেন, কর্তব্য পালনকালে পুলিশের ওপর সড়ক অবরোধকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পুলিশ বেলাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
এদিকে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দায়িত্বরত অবস্থায় এএসআই আবদুল জলিলের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। বিভিন্ন মিডিয়ায় আসছে অসাবধানতাবসত নিজ বন্দুকের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে টি আই রিপোর্টে দেখা গেছে, জলিল শর্টগানের গুলিতে নিহত হয়েছেন। কিন্তু তার কাছে কোন শর্টগান ছিল না। তাই তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।