ইবোলা ভাইরাস কবলিত আফ্রিকার লাইবেরিয়া থেকে বরিশালের গৌরনদী ও মাদারীপুরের কালকিনির ৬ জন বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের দেহ পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় এলাকায় আঙ্কক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, গৌরনদীর বাঙ্গীলা গ্রামের রুহুল আমিন সরদার (৩৫) ও তার শ্যালকের স্ত্রী মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আটিপাড়া (ভাংগা ব্রিজ) গ্রামের সেতু বেগম (২৫), শ্যালকের পুত্র তাছরিন ওরফে সনেট (৮), কন্যা ঐশি (২), কালকিনি সদরের মাহবুব সরদার (৩০) ও খুলনার ভুলু (৪২) ইবোলা ভাইরাসের ভয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফেরেন। সন্ধায় তারা সবাই বাড়িতে পৌঁছান।
খবর নিয়ে জানা গেছে, ইবোলা পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় ভয়ে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত্ করছেন না।
রুহুল আমিন মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানান, ইবোলা ভাইরাসের ভয়ে তারা বহুদিন আগ থেকে দেশে আসার চেষ্টা চালান। কিন্তু লাইবেরিয়ার সাথে অন্য দেশের বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তারা দেশে আসতে পারেননি। বহু কষ্টে গত ৪ অক্টোবর তারা চার জন লাইবেরিয়া থেকে বিমানে মরক্কো যান। সেখান থেকে আলজেরিয়া হয়ে দোহায় যান। তারপর কাতারের একটি বিমানে করে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫ টায় তারা ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাদের পাঁচটি ল্যাগেজ খোয়া গেছে। একই বিমানে লাইবেরিয়া থেকে কালকিনির মাহাবুব সরদার ও খুলনার ভুলু নামের আরো দুই জন এসেছিল। শুধু শাহজালাল বিমান বন্দরেই নয় কোন বিমানবন্দরেই তাদের পরীক্ষা করা হয়নি বলে তিনি জানান।
রুহুল আমিন কাজের উদ্দেশে দুই বছর আগে লাইবেরিয়ায় যান।
লাইবেরিয়া ফেরত ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে, লাইবেরিয়ার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে। এর মধ্যে গৌরনদী ও কালকিনি এলাকার রয়েছেন ১২ জন। দুই মাস আগে লাইবেরিয়া, সিয়েরালিয়নসহ কয়েকটি দেশে ইবোলা ভাইরাস দেখা দেয়। এতে প্রায় হাজার দুয়েক লোক মারা যায়। এর মধ্যে লাইবেরিয়ায় মারা গেছে প্রায় ৮০০ মানুষ। লাইবেরিয়ায় এ রোগটি মহামারি আকার ধারণ করায় দেশটির সরকার সতর্কতা জারি করে। ওই দেশের সঙ্গে সারা বিশ্বের বিমান যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিপাকে পড়েন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকরা। কাজ-কর্ম বন্ধ থাকায় তারা বাসায় বন্দি জীবন যাপন করেন। ভয়ে তারা বাইরেও বের হতে পারছেন না, আবার দেশেও ফিরতে পারছেন না। দেশে তাদের স্বজনরা মহা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার জাকির হোসেন গতরাতে ইত্তেফাককে জানান, বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের পাশে আফ্রিকা ফেরত যাত্রীদের দেহ পরীক্ষার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। কোন যাত্রী ওই সকল দেশ থেকে আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া ইমিগ্রেশন এলাকা অতিক্রম করতে পারে না। যদি এ ক্ষেত্রে কোন ব্যত্যয় ঘটে থাকে তাহলে ওই সময় দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশ করা হবে।
