গত রাতে মঠবাড়িয়া ও তুষখালীসহ কয়েকটি স্টেশন থেকে দু’ সহ্রসাধিক যাত্রী নিয়ে পূবালী-১ নামের একটি লঞ্চ ঢাকা যাওয়ার পথে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা বরিশাল নৌ-বন্দরে আটক করেছে। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ঐ লঞ্চটি আটক করে রুট পারমিট বাতিল করা হয়। রাত ১১ টার পর এ সিদ্ধান্ত লঞ্চ যাত্রীরা জানার পর চরম দুর্ভোগে পড়েন। একই সময় ঝালকাঠী থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা রওয়ানা হওয়া সুন্দরবন-২ লঞ্চটি বরিশাল নৌ-বন্দরে আটকের পর রুটপারমিট বাতিলের কথা জানালেও পরবর্তীতে ঐ লঞ্চটি ছেড়ে দেয়া হয়। ঝালকাঠী ঘাট থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়ার সময় সুন্দরবন-২ লঞ্চকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসেন ১০ হাজার টাকা জড়িমানা করেন বলে জানা গেছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক মো: শহিদুল্লাহ লঞ্চ দু’টি আটকের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান- দু’টি লঞ্চেরই রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি জানান- শুধু পূবালী -১ লঞ্চটির রুটপারমিট বাতিল করে ঘাটে আটকে রাখা হয়েছে। আর সুন্দরবন-২ লঞ্চের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঐ লঞ্চটি থেকে বৃহস্পতিবার সাড়ে ৮’শ যাত্রী বরিশাল নৌ-বন্দরে নামিয়ে রাখা হয়।
পরদিন একই রুটের ফারহান-৭ লঞ্চটি চরমোনাই এলাকা অতিক্রম কালে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা ফেরত এনে বরিশাল নৌ-বন্দরে সাড়ে ৫’শ যাত্রীকে নামিয়ে দেন। ঐ লঞ্চের মাস্টারকে ১০ হাজার টাকা ও সুপার ভাইজারকে ৩০ হাজার টাকা জড়িমানা করা হয়। মাঝ পথে যাত্রী নামার কারণে কর্মস্থল গামী মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছেন বলে তারা জানান।
বালী -১ লঞ্চটি আটকে রাখায় গভীর রাত পর্যন্ত লঞ্চের যাত্রীরা বিক্ষোভ করেন। রবিবার সকালে পারাবত কোম্পানীর অপর একটি লঞ্চে আটকে পড়া যাত্রীদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক আবুল বাসার মজুমদার ইত্তেফাককে জানান- পূবালী-১ লঞ্চটির ধারন ক্ষমতা ৬৪৪ জন। কিন্ত মঠবাড়িয়া, তুষখালী ও রায়েনদাসহ বিভিন্ন স্টেশন থেকে লঞ্চটি দু’ হাজার থেকে আড়াই হাজার যাত্রী বহন করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল। দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে ঝুকিপূর্ন যাত্রা বাতিল ও লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। একই দিন পটুয়াখালী থেকে ঢাকা গামী কুয়াকাটা-১ নামের অপর একটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করে লঞ্চ মালিক কালাম খান ও সারেং- সুকানীকে আসামী করে মেরিন কোর্টে মামলা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। ঐ লঞ্চটি নৌকা যোগে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার সময় বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক হাতে নাতে আটক করে এ মামলা করেন। একই সাথে লঞ্চটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ’র কঠোর মনোভাব ও নৌ-পুলিশের তত্পরতায় নৌ-যান চলাচলে অনেক শৃঙ্খলা ফিরে এলেও পথে পথে কয়েকটি লঞ্চ আটক পড়া এবং যাত্রীদের লঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার কারনে কর্মস্থলগামী মানুষকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
