এমপি বদি কারাগারে, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৪, ১৬:০৮
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদিকে দুদকের মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ায় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রবিবার সকাল ১১টা থেকে অবরোধ শুরু হলে উভয় দিকে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকান পাট বন্ধ করে দেয়। এসময় উখিয়া স্টেশন চত্বরে অনুষ্টিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অভিলম্বে আব্দুর রহমান বদির মুক্তি দাবি জানান। একই সময়ে পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালী, কোটবাজার, মরিচ্যা, সোনারপাড়ায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বদির সমর্থককেরা। পুলিশ বারবার চেষ্টা করেও অবরোধ তুলে নিয়ে যানবাহন চলাচল সচল করতে পারেনি।
অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায়  এমপি বদিকে সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মারুফ হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ ও ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে আব্দুর রহমান বদি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যমানের সম্পদ গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখানোর জন্য কম মূল্যের সম্পদ ক্রয় দেখিয়ে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩৩৭৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি দেখানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়।
অভিযুক্তের সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, এনবিআর, বিআরটিএ, রাজউক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, রিহ্যাব, ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য অফিসে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে সম্পদের হিসাব বের করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের নিজ নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্ত করে গত ২১ আগস্ট এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলাটি করেন দুদকের উপ-পরিচালক খায়রুল হুদা ও আবদুস সোবহান।
গত ১১ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে হাইকোর্ট তাকে চার সপ্তাহের জামিন দেন। এ জামিনের মেয়াদ শেষ হলে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে  কারাগারে পাঠায়।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এএস থোয়াই জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে অরবোধ তুলে নেওয়া হলে দুপুর ২টা থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।