পুঠিয়ায় রাস্তা নিয়ে জন অসন্তুষ্টি

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৪, ০৪:৩০

সাংসদ ওয়াদুদ ২০০৯ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে দুই দফায় রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাংসদ নির্বাচিত হন। তাঁর নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাট বেশির ভাগই খানাখন্দে ভরা। রাজশাহীর পুঠিয়া-দুর্গাপুর এলাকার বেশির ভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। অথচ সেগুলো মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেননি সাংসদ কাজী আবদুল ওয়াদুদ। উপরন্তু মেরামত না করার জন্য তাঁকে গালি দেওয়ার অভিযোগে রোববার তিন ব্যক্তিকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুঠিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ২শ ২৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে বিগত সরকারের সময় মাত্র ৫৩ কিলোমিটার রাস্তা মেরামত করা হয়েছে। বাকি ১শ ৭২ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের প্রায় অনুপযোগী।
গত রোববার দুর্গাপুর উপজেলার একটি দলীয় অনুষ্ঠান শেষে সাংসদ নিজ বাড়িতে ফেরার পথে পুঠিয়ার বাঁশপুকুরিয়া এলাকার এক যুবক রাস্তা মেরামত না করার অভিযোগ এনে সাংসদকে গালি দেন। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে সাংসদ নিচে নামলে দলীয় লোকজন ধাওয়া করে সেখান থেকে তিন ব্যক্তিকে আটক করে পেটান। পরে দুর্গাপুর থানার পুলিশের কাছে তাঁদের সোপর্দ করা হয়। যদিও সাংসদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পুঠিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মৌমাছির আহ্বায়ক তারেকুজ্জামান বলেন, পুঠিয়ার রাজবাড়িকে ঘিরে এখানে বিদেশি পর্যটক আসেন। সদর থেকে এখানে যাওয়ার এক কিলোমিটার রাস্তাও খানাখন্দে ভরা। সাংসদ তাঁর দুই মেয়াদে এই রাস্তার এক ইঞ্চি জায়গাও মেরামতের ব্যবস্থা করেননি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মেরামত করা হয়েছিল। পরে ২০১১ সালে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কটি সংস্কার করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ করার মাস তিনেকের মধ্যেই আবার কার্পেটিং উঠে খানাখন্দ বেরিয়ে পড়ে।

দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট পাকা রাস্তা আছে ২৩৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ২০০ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতযোগ্য হয়ে পড়েছে। সাংসদ কাজী আবদুল ওয়াদুদ মুঠোফোনে বলেন, পুঠিয়া-তাহেরপুর রাস্তার দরপত্র হয়ে গেছে। ত্রিমোহিনী থেকে আড়ানী পর্যন্ত আট কিলোমিটার রাস্তার কার্যাদেশ আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে। শিবপুর-দুর্গাপুর সড়কের ব্যাপারেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে।