নিয়ম ভেঙে নামমাত্র মূল্যে শতবর্ষী ১০টি গাছ বিক্রি

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৪, ০৫:১২

দরপত্র ছাড়াই ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশের ১০টি বিশাল আকৃতির শতবর্ষী রেইনট্রি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করেছে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ। এরই মধ্যে চার-পাঁচটি গাছ কাটা শেষ হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুতগতিতে কাটার কাজ চলছে। জেলা পরিষদের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মহাসড়ক থেকে বেশ কয়েকটি গাছ বিক্রি করা হয়েছে, যেগুলো ক্রেতারা কেটে বিক্রি করেছেন। জানা গেছে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের নগরবাথান এলাকায় থাকা ১০টি রেইনট্রি বিক্রি করা হয়েছে মাত্র এক লাখ টাকায়। শহরের পাগলাকানাই এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী জিন্নাহ আলী বিভিন্ন ব্যক্তির নামে এসব গাছ কিনেছেন। শুক্রবার থেকে তিনি শ্রমিক নিয়োগ করে দ্রুততার সঙ্গে গাছগুলো কাটছেন। সূত্রটি আরও জানায়, এই ১০টি গাছ কাটার পর আরও চারটি মেহগনিগাছ কাটা হবে। এই চারটি গাছ মাত্র ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে নগরবাথান পর্যন্ত বেশ কিছু শত বছরের রেইনট্রি রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় মাথা শুকিয়ে গেছে। আবার কিছু গাছের একটি ডাল ভেঙে পড়ায় এক পাশ শুকিয়ে আছে। এই গাছগুলো জেলা পরিষদ কোনো দরপত্র ছাড়াই মরা দেখিয়ে বিক্রি শুরু করেছে।
একাধিক কাঠ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই সড়কে থাকা প্রতিটি শতবর্ষী ভালো গাছের মূল্য পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা। আর ডাল ভাঙা গাছগুলোর প্রতিটির মূল্য দুই লক্ষাধিক টাকা। প্রতিটি মেহগনিগাছের মূল্যও তিন থেকে চার লাখ টাকা।
জেলা পরিষদের সূত্রটি জানায়, শতবর্ষী গাছগুলো বিক্রির ক্ষেত্রে এসব নিয়মের কোনোটিই মানা হয়নি। শুধু তিন-চারজনের নাম লিখে তিন-চারটি দর বসিয়ে গাছ বিক্রি করা হচ্ছে। যাঁর নামে গাছ বরাদ্দ দেওয়া হবে, তিনিই একাধিক দর বসিয়ে কাগজপত্র তৈরি করে দিচ্ছেন।
জিন্নাহ আলী বলেন, গাছগুলো মরা ছিল। এ কারণে জেলা পরিষদ বিক্রি করেছে। কোনো তাজা গাছ কাটা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল ওয়াহেদ জোয়ার্দ্দার বলেন, গাছগুলো কোটেশন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। এগুলো মরা গাছ। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এস এম মৈনূর জানান, এভাবে গাছ বিক্রি করার নিয়ম নেই।

ঝিনাইদহ বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন জানান, কোনো সবুজ গাছ কাটার সুযোগ নেই। মরা গাছ বিক্রি করতে হলে প্রথমে উপজেলা বন সংরক্ষণ কমিটি থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এরপর জেলা বন সংরক্ষণ কমিটি অনুমোদন দেবে। পরে বিভাগীয় পর্যায়ের অনুমোদন নিতে হবে। সেই সঙ্গে বন বিভাগের কর্মকর্তা দিয়ে গাছের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। সর্বশেষ উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে।