দুবলার চরসহ ১৪টি চরে শুরু হয়েছে ৫ মাস ব্যাপী শুঁটকি সংগ্রহ মৌসুম। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আর জলদস্যুদের শংকার বোঝা মাথায় নিয়ে এবছর সমুদ্রে যাত্রা শুরু করেছেন সুন্দরবন উপকূলীয় জেলেরা। অন্তত ৩০ হাজার জেলে সমুদ্রে মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
বনবিভাগ জানিয়েছে গত ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হয় শুঁটকি আহরণ মৌসুম। তবে এবার ঝড়ো হাওয়ার কারণে শুঁটকি আহরণ একটু দেরিতে হতে পারে। বিভিন্ন আশংকা থাকা সত্ত্বেও জেলেরা সমুদ্র যাত্রা গত রবিবার থেকে শুরু করেছে। জেলেদের এ সমুদ্র যাত্রাকে ঘিরে সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।
জেলে সরদার সাবের হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, জাল-নৌকা ও শুঁটকি তৈরির সরঞ্জামাদিসহ জেলেবহর সমুদ্র যাত্রা শুরু করেছে। এদিকে মংলার পশুর নদীর চিলা বাজার থেকে জেলে বহর তাদের দুবলা যাত্রা শুরু করে। জেলেদের এ সমুদ্র যাত্রা উপলক্ষে চলছে নানা আয়োজন। স্ত্রী-পুত্র ও স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় বিধির হরেক রকম আনুষ্ঠানিকতা চলে পুরোদমে। পশুর নদীর চিলা খালের মোহনায় সমুদ্রগামী জেলেদের মিলনমেলায় এখন ভিন্ন রকম এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সূত্র মতে, মংলা থেকে নদী পথে দুবলা জেলে পল্লীর দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। সুন্দরবন সংলগ্ন এ পল্লীর সব কর্মকাণ্ড জেলেদের ঘিরে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরের ১৫টি মত্স্য আহরণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নিয়ে গঠিত দুবলা জেলে পল্লী। প্রতি বছর এ মৌসুমে সাগরপাড়ের দুবলা, মেহের আলীরচর, আলোরকোল, অফিস কিল্লা, মাঝের কিল্লা, শোলারচর, নারকেলবাড়িয়া, ছোট আমবাড়িয়া, বড় আমবাড়িয়া, মানিকখালী, কবরখালী, চাপড়াখালীর চর, কোকিলমনি ও হলদাখালী চরে হাজার হাজার জেলে জড়ো হন।
এদিকে, এবছরও সমুদ্রগামী জেলেদের মধ্যে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ জলদস্যু গ্রুপগুলোর উত্পাত-আতংক কাটছে না বলে মন্তব্য করেছেন মত্স্য সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ।
তবে এব্যাপারে আশ্বস্ত করে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও মো: আমীর হোসাইন চৌধূরী বলেন, মৌসুমি ওই শুঁটকি জেলেদের নিরাপত্তার জন্য বন বিভাগের সব টহল ক্যাম্পকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া জেলে ও বহরদাররা মংলা থেকে কোস্টগার্ডের সহয়তা নিয়ে নিরাপদে শুঁটকি পল্লীতে যাচ্ছে। দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিন জানান, মৌসুমের শুরুতেই দেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলের হাজার হাজার জেলে ও মত্স্য ব্যবসায়ীরা সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চরাঞ্চালে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
