রাজধানীর মিরপুরে রবিবার রাতে গিয়াস উদ্দিন মাতুব্বর (৩৬) নামে এক সুতা ব্যবসায়ী নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। নিহত গিয়াসের মাথা ও শরীরের অনেকগুলো ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রীর পরকিয়ায় বাধা দেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নিহতের স্ত্রী লাবনী ইয়াসমিন নীলাকে (২৫) গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে মিরপুর থানায় মামলা হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই হাজী মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, মিরপুর-১০ এলাকার সি-ব্লকের ১৫ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর নিজেদের বাসায় স্ত্রী নিলা ও দুই সন্তান ইশিকা আক্তার সুমি (৯) এবং নিহালকে (৪) নিয়ে বসবাস করতেন গিয়াস উদ্দিন। ৭ তলা ঐ বাড়িতে তারা তাদের বাবাসহ চার ভাই বসবাস করেন। চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে গিয়াস ছিলেন সপ্তম।
ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, রবিবার রাত ১০টার পর বাসার নিচতলার দোকান থেকে দুই কেজি পোলার চাল কিনেন গিয়াস। ঐ সময় তার স্ত্রী ফোন দিয়ে গিয়াসকে বলেন, বাসায় অতিথি এসেছে, এক লিটারের একটি কোক নিয়ে বাসায় উঠতে হবে। গিয়াস সেগুলো নিয়ে বাসায় যান। ঘণ্টাখানেক পর চিত্কার শুনে স্বজনরা ছুটে গিয়ে দেখেন গিয়াস রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতাল নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ১টার দিকে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
মিরপুর থানার ওসি সালাহউদ্দিন খান বলেন, ঘটনার পরপরই নীলাকে আটক করে থানায় এনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে নীলা তার স্বামীর মৃত্যু সম্পর্কে রহস্যজনক তথ্য দিয়েছেন। ঘটনার সময় নিহতের দুই শিশু ছেলে-মেয়েকে তাদের মা বাসার বারান্দায় একরকম আটকে রেখেছিলেন। নিহতের স্ত্রী ও দুই সন্তানের তথ্যে ব্যাপক অসংলগ্নতা পাওয়া গেছে। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে নীলা এ খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ ব্যাপারে সিআইডি নীলার হাতের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত জব্দ করে সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের ভাই মাসুদুর রহমান আরো বলেন, বোরকা পরিহিত এবং পায়ে জুতা পরা একজন নীলার বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় চিত্কার শুরু হয়। বোরকা পরিহিত মানুষটি কোনো পুরুষ হবে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা সন্দেহ করেছেন।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, গিয়াস-নীলার ১১ বছরের দাম্পত্যের বেশিরভাগ সময়ই কলহ বিরাজ করেছে। নীলার বাবার বাসা মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায়। পাঁচ বছর আগে ঐ এলাকার উজ্জল নামে এক যুবকের সঙ্গে নীলার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ নিয়ে জানাজানি হলে একাধিকবার পারিবারিকভাবে দেনদরবার বসে। নীলা প্রতিবারই ক্ষমা চেয়ে সংসার করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি ঐ পথ থেকে একেবারে আর ফিরতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়। সে কারণে এখনও প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটতো বলে মন্তব্য করেন স্বজনরা। তাদের মতে, নীলা তার পরকিয়া প্রেমিকের সহযোগিতায় স্বামীকে খুন করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে কল্যানপুরে স্ত্রী লাবনী আক্তারের হাতে স্বামী সালেহউদ্দিন খুন হয়। এ ঘটনায় পুলিশ লাবনী আক্তারকে গ্রেফতার করলে তিনি আদালতে তার স্বামী খুনের ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ হত্যা করেন বলে আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানিয়েছেন।
