মর্মন্তুদ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির দেড় বছর পরও বিদেশি কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ না দেয়াটা লজ্জাজনক। সফররত জার্মানির সংসদীয় দলের সদস্যরা এ মন্তব্য করেন। তারা বলেন, দেড় বছর পার হয়ে গেছে। রানা প্লাজা ভবন ধস দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকরা এখনো বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পায়নি।
জার্মান সংসদ সদস্যরা আরো বলেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির দায় সংশ্লিষ্ট সকল মহল বিশেষ করে সরকার, মালিক ও ক্রেতাদের নিতে হবে। সরকার বিল্ডিং কোড পুরোপুরি নিশ্চিত করলে এই ট্রাজেডি ঘটতো না। এই ট্র্যাজেডির সবচেয়ে বড় শিকার গার্মেন্টস কর্মীরা। তাদের অধিকার, জীবন সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত। ট্র্যাজেডির পর ক্ষতিগ্রস্তরা কেউ অর্ধেক ক্ষতিপূরণ পেয়েছে, কেউ পায়নি। সাড়ে তিন ইউরো দিয়ে একটি শার্ট তৈরি করে ৫০ ইউরোতে তা বিক্রি হয়। ন্যূনতম মজুরি যা দেয়া হয় তা অপর্যাপ্ত। শ্রমিকদের মজুরি, ছুটি ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা অবশ্যই দিতে হবে। এমন শ্রম আইন থাকা দরকার যাতে শ্রমিকরা চাকরি নিয়ে কখনো ভীত না হয়। যে কোন শিল্পের সফলতার মূলে রয়েছে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে অংশীদারিত্ব। এটা উন্নতির পূর্বশর্ত। বাংলাদেশে ৫ শতাংশেরও কম শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত। আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা দিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন কাঠামো থাকা দরকার বলে জার্মান আইন প্রণেতারা মনে করেন।
