বছর কয়েক আগে যখন ইরাক ও সিরিয়াতে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের রমরমা চলছিল তখন অনেকেরই ধারণা হয়েছিল সত্যি সত্যি এই জঙ্গিরা বুঝি তাদের ঘোষণাকে বাস্তবে পরিণত করে ছাড়বে। অর্থাত্ হামলায় হামলায় বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে দুর্বল করে সেগুলোর দখল নিয়ে আইএস খিলাফত বানিয়ে ছাড়বে। তখন পশ্চিমা দুনিয়াতেও অনেকের মধ্যে লেগেছিল আইএসের ঢেউ। মার্কিন, ব্রিটিশ, ফরাসি সেনাদের কমলা রঙের পোশাক পরিয়ে নৃশংসভাবে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য ইন্টারনেটে প্রচার করত জঙ্গিরা। এদের এই শক্তি দেখে অনেক নারীও ঘর-বাড়ি ছেড়ে আইএসে যোগ দিতে চলে যায় সিরিয়ায়। এদের মধ্যেই একজন ব্রিটিশ স্কুল ছাত্রী শামিমা। তিনি আইএসের কোনো একজন যোদ্ধাকে বিয়ে করে তার পাশে থেকে শক্তি যোগাতে সিরিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু আইএস এখন বিলুপ্তির পথে। জঙ্গি সংগঠনটির নারী-পুরুষ যেসব সদস্য এখন বেঁচে আছে তারা খাবারের অভাবে দুঃসহ জীবন-যাপন করছে। বেশিরভাগই আত্মসমর্পণ করে প্রাণটা বাঁচাচ্ছে। মোহ কেটে যাওয়া ব্রিটিশ কিশোরী এখন ফিরতে চায় তার দেশ ব্রিটেনে। তিনি বলেছেন, সিরিয়াতে তার থাকার জায়গা হচ্ছে না। তবে ব্রিটেনও জানিয়ে দিয়েছে সেদেশে তার জায়গা হবে না। ফলে দু’কূল হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার।
২০১৫ সালে লন্ডনের যে তিন স্কুল-পড়ুয়া মেয়ে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর সাথে যোগ দেবার জন্য ব্রিটেন ত্যাগ করেছিল, সেই দলে ছিলেন শামিমা। এখন তার বয়স ১৯ বছর। তিনি এখন যুক্তরাজ্যে ফিরতে চাইলেও আইএসে যোগ দেওয়ার জন্য তার কোনো অনুতাপ নেই বলে জানিয়েছেন। ব্রিটেনের দৈনিক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে শামিমা বেগম বলেন, সিরিয়ায় থাকার সময় ডাস্টবিনে ময়লার পরিবর্তে গাদাগাদা মানুষের কাটা মাথা পড়ে থাকতে দেখেছি। এসব তাকে একটুও বিচলিত করেনি।
সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে সম্প্রতি একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন শামিমা। এর আগে তার দুটি সন্তান হয়েছিল। তবে দুইজনই মারা গেছে। তিনি বলেন, এই সন্তানটির জন্যই তিনি দেশে ফিরতে চান। শামিমা বলেন, তার যে দুই বান্ধবী তার সাথে সিরিয়া গিয়েছিলেন। তাদের একজন বোমা বিস্ফোরণে মারা গেছেন। তৃতীয়জনের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা তিনি জানেন না।
সিরিয়ায় যাবার জন্য লন্ডন ত্যাগের সময় বেথনাল গ্রিন একাডেমির ছাত্রী শামিমা ও আমিরা আবাসির বয়স ছিল ১৫, আর খাদিজা সুলতানার বয়স ছিল ১৬। লন্ডনের কাছে গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তারা তিনজন তুরস্কের উদ্দেশ্যে উড়াল দেন। শামিমার স্বামী সিরীয় সেনাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। শামিমা এখন উত্তর সিরিয়ায় একটি শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন। সেখানে প্রায় ৩৯ হাজার লোক গাদাগাদি করে আছে। তিনি বলেন ইসলামিক স্টেটের ‘খিলাফত’ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে বলেই তার মনে হচ্ছে। তাদের আর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ আছে বলেও তার মনে হচ্ছে না।
ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না। আর যদি পালিয়ে ফিরেও আসেন তবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা সমর্থন দেওয়ার অপরাধে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
