নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত চট্টগ্রামবাসী

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৪, ০০:১০

চট্টগ্রামবাসী নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, অপরিচ্ছন্ন নগরী, বিদ্যুত্ পানি ও গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, যত্রতত্র সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ও শিল্প কারখানা স্থাপনসহ নানা সংকটে নাগরিক দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নগরবাসীকে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয়হীনতা নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা বলে সংশ্লিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিমত। বিশেষ করে চট্টগ্রামে নগর উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মধ্যে কোনো প্রকার ন্যূনতম সমন্বয় নেই। একইভাবে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ, টিঅ্যান্ডটি, বিদ্যুত্ বিভাগের কর্মকাণ্ড অপরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করার ফলে নগরবাসীকে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে খাল খননসহ বিভিন্ন প্রকল্প আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। নগরীতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি খাল খনন প্রকল্প অর্থের অভাবে গত তিন বছর ধরে ঝুলে থাকায় নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা লাঘব হচ্ছে না। ভবন নির্মাণের সময় পাইলিংয়ের মাটি নালায় এসে পড়ে। এছাড়া বৃষ্টির সময় পাহাড়ি বালু নালায় পড়ার কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইচ গেট না হওয়া পর্যন্ত জলাবদ্ধতা সমস্যা কাটবে না।
এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের ভূমিকায় নগরবাসী অসন্তুষ্ট। নির্ধারিত ডাস্টবিন ছাড়াও যেখানে সেখানে পড়ে থাকা ময়লা আবর্জনা নাগরিক জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।
এদিকে সিডিএর উদ্যোগে নগরীতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান থাকলেও তা অত্যন্ত ধীরগতিতে এগিয়ে চলছে। কদমতলী ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ ২০১২ সালে শুরু হলেও কবে তা শেষ হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না। সিডিএ‘র বেশ কিছু প্রকল্প অপরিকল্পিতভাবে নেয়া হয়েছে বলে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে অভিযোগ করা হয়েছে। সিডিএর ফ্লাইওভার প্রকল্প নগরীতে যানজট নিরসনের পরিবর্তে বাড়াতে সাহায্য করবে বলে তারা অভিযোগ করেন।  
চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিকল্পিত উন্নয়নে ১৯৯৫ সালে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করে সিডিএ। কিন্তু গত ১৯ বছরে এর একটি সুপারিশও বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর ২০০৮ সালে একটি ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান করা হলেও তার কোনো সুফল নগরবাসী পায়নি। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নগরীতে খাল নির্মাণের জন্য ২৯০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হলেও আজ পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইঞ্জিনিয়ার আলী আশরাফ ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান ও ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান থাকলেও এটি কেউ মানার প্রয়োজন বোধ করে না। এমনকি সিডিএ নিজেও তাদের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে না। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন না হলে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম গড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।    

বিদ্যুত্, পানি ও গ্যাস সংকটেও নগরবাসী দিশেহারা। দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুত্ থাকে না। বিদ্যুত্ সংকটে আবাসিক বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি শিল্পখাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীদের অনেকে উভয় সংকটে পড়েছেন।