বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ বগুড়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক শিমুল হক রেহান (৩৬) হত্যার ঘটনায় পাচঁজন গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার পর্যন্ত শহরের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হচ্ছেন— হত্যার সাথে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত সৈনিক লীগের শহর কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সবুজ সওদাগর, তার ভাই সোহান, রাহাত, বিপুল ও বেলাল। এদের মধ্যে সংঘষের সময় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত সবুজ পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। অন্যদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাস তিনেক আগে সৈনিক লীগের বগুড়া জেলার নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। নতুন কমিটিতে শিমুল হক রেহানকে আহ্বায়ক এবং মিজান ও বকুলকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয়। এই কমিটি দুই মাস আগে সৈনিক লীগের শহর কমিটি বিলুপ্ত করে। ঐ কমিটিতে সবুজ সওদাগর যুগ্ম-আহবায়ক ছিলেন। নতুন শহর কমিটিতে ডনকে আহ্বায়ক এবং অপর ছয়জনকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয়। সবুজ সওদাগর কমিটি থেকে বাদ পড়ে যাওয়ায় রেহানের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। গত কয়েকদিন আগে সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মারা যাওয়ায় বগুড়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক শিমুল হক রেহান কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়কের ছবি দিয়ে একটি ব্যানার তৈরি করেন। ব্যানারটি শুক্রবার দুপুরের পর ব্যানারটি জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে ঝুলানো হয়। বিকেল ৪টার দিবে সবুজ সওদাগর অফিসের সামনে গিয়ে ব্যানারে রেহানের নাম দেখে তা ছিড়ে ফেলে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাপ্পী ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের মধ্যে সমঝোতা করার চেস্টা করেন। সন্ধ্যার দিকে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে সৈনিকলীগের নেতাকর্মীদের বসার জায়গায় আহ্বায়কের চেয়ারে রেহানকে বসে থাকতে দেখে সবুজ সওদাগর ক্ষিপ্ত হয়। এ নিয়ে আবারো দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে রেহান সবুজ সওদাগরকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে গেলে সবুজ সওদাগর প্যান্টের পকেট থেকে চাকু বের করে রেহানের বুকে আঘাত করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিত্সক রেহানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত মামলা হয়নি।
এ ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার রাতে সবুজকে একটি ক্লিনিক থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য নেয়া হয়।
শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগে আহ্বায়ক শহিদুল হক বাপ্পী জানান, দুজনের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে এর আগেও কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু তার পরেও সবুজ সওদাগর রেহানকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রধান অভিযুক্ত সবুজ সওদাগরসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দা কার্যালয়ে তাদের জিঞ্জাসাবাদ চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।
