মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে কালিগঙ্গা নদীর পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। জেলা সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম শানবান্দা, চৈল্যা, কলাশী ও হাটিপাড়া ইউনিয়নের বরুন্ডী, বান্দুমহিষা এলাকায় কালিগঙ্গা নদীর পাড় থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। এভাবে অবাধে নদী পাড়ের মাটি কেটে নেওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে এবং সেই সঙ্গে পরিবেশও বিপর্যস্ত হচ্ছে। মাটি কেটে নেওয়া এসব জমির মালিকানা দাবিকারী কয়েকজনের সাথে আলাপ হলে তারা বলেন, আমরা আগে এসব জমির মাটি বিক্রি করলেও এখন আর বিক্রি করছি না। ওই চক্রটি আমাদের বিনা অনুমতিতে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
সারা বছর জুড়েই নদী পাড়ের নির্দিষ্ট ওই স্থানগুলোতে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি নেওয়ার কারণে রাস্তায় প্রচুর গর্তের সৃষ্টি হয়, সেই সঙ্গে বাতাসে ওড়ে প্রচুর ধুলা। কিছু স্থানে ফসলি জমির ওপর দিয়ে মাটি বহনকারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে কৃষি উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণে সাধারণ মানুষদের প্রচুর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ও হাটিপাড়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কালিগঙ্গা নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। নদীর পাড় থেকে ক্রমাগত মাটি কেটে নেওয়ায় পাশের বসতভিটা ও আবাদি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তারা বলেন, সমাজের প্রভাবশালীদের সাথে সমঝোতা করেই ওই চক্রটি এই মাটি কাটার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস কারও নেই। যে প্রতিবাদ করে সেই বিপদে পড়ে। তারা এই প্রতিবেদককে বলেন, আপনার মাধ্যমে প্রশাসনের নিকট আমরা আবেদন করছি, এসব অবৈধ মাটি কাটার ব্যবসা যেন বন্ধ করা হয়।
নদীর পার্শ্ববর্তী জমির মালিক কলাশি গ্রামের জলিল শিকদার জানান, আমার জমিটা একেবারে নদীর পাড়ে। আমার পাশে যাদের জমি তারা মাটি বিক্রি করায় বর্ষায় আমার জমির মাটি ভেঙে যায় । সেজন্য বাধ্য হয়ে আমাকেও মাটি বিক্রি করতে হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন সরদার বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
