রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক-এর প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ ছয় খুনে অভিযুক্ত ইউপিডিএফের কেন্দ ীয় নেতা আনন্দ প্রকাশ চাকমাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আলী বলেন, তাদের একটি দল গতকাল রবিবার শেরেবাংলা নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৯ বছর বয়সী আনন্দ প্রকাশকে গ্রেফতার করে।
মেজর আলী জানান, আগারগাঁও স্টাফ কলোনিতে মেয়ের বাসায় আত্মগোপন করে ছিলেন আনন্দ প্রকাশ চাকমা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত থেকে র্যাব ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে ছিল। পরে গতকাল দুপুরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের কেন্দ ীয় দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন আনন্দ প্রকাশ চাকমা। তাদের নির্দেশেই গত বছর শক্তিমান ও তপন জ্যোতিসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয় বলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সংস্কারবাদী অংশের অভিযোগ। পার্বত্য শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ছেড়ে ইউপিডিএফ গঠন করেছিলেন প্রসিত খীসা। প্রায় এক যুগ আগে জনসংহতি সমিতি আরেক দফা ভেঙে সুধা সিন্দু খীসার নেতৃত্বে গঠিত হয় জেএসএস (এমএন লারমা)। নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা ছিলেন জনসংহতি সমিতির ‘এমএন লারমা’ অংশের কেন্দ ীয় কমিটির সহ-সভাপতি।
আর তপন জ্যোতি চাকমা বর্মার নেতৃত্বে ইউপিডিএফের সংস্কারবাদী একটি অংশ দুই বছর আগে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামে নতুন দল গঠন করেন। নানিয়ারচর এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জেএসএস-এর এমএন লারমা অংশের সঙ্গে তাদের এক ধরনের মিত্রতা তৈরি হয়। পাহাড়ি সংগঠনগুলোর এই বিভক্তির পথ ধরে গতবছর পার্বত্য জেলাগুলোতে নতুন করে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়। শুরু হয় খুনোখুনি।
গত বছর ৩ মে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার সময় শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন তার শেষকৃত্যে যাওয়ার পথে হামলায় নিহত হন তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ পাঁচজন। র্যাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, ওই ছয় খুনের ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, তাতে আনন্দ প্রকাশ চাকমাও আসামি। তবে সন্তু লারমার জেএসএস এবং প্রসিত খীসার ইউপিডিএফ ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে।
