মার্কিন নেভি সিলের কোন সদস্যের গুলিতে আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেন নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই বিশেষ বাহিনীর দুই সদস্য ওসামাকে হত্যার ব্যাপারে দুই রকম দাবি করায় এই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে আত্মগোপন থাকা অবস্থায় তিন বছর আগে মার্কিন নেভি সিলের বিশেষ অভিযানে নিহত হন ওসামা বিন লাদেন।
সম্প্র্রতি ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ওই অভিযানে অংশ নেয়া মার্কিন নেভি সিলের সাবেক সদস্য রবার্ট ও নিল (৩৮) দাবি করেন, তার গুলিতেই লাদেন নিহত হন। অপর দিকে, অভিযানে অংশ নেয়া নেভি সিলের আরেক সদস্য ম্যাট বিসোন্যাট একটু অন্য রকমভাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। ২০১২ সালে অবসরে যাওয়া ও’ নিল অবশ্য এর আগে একটি ম্যাগাজিনে ছদ্মনামে লাদেন হত্যার কাহিনী বর্ণনা করেছিলেন। চলতি মাসের শেষে প্রচারের অপেক্ষায় থাকা একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে ও’ নিল তার পরিচয় প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। তবে এর আগেই একটি ওয়েবসাইট তার পরিচয় প্রকাশ করে দেয় বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।
ওই সাক্ষাত্কারে ও’ নিল দাবি করেন, লাদেনের শয়নকক্ষের অভিযানে থাকা দলটির দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন তিনি। তার সামনে থাকা সদস্যের ছোড়া গুলিটি লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলে তাকে পাশ কাটিয়ে ও’ নিল দেউড়িতে আসেন। ও’ নিলের দাবি, কক্ষটি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকা সত্ত্বেও যান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি লাদেনকে পরিষ্কারভাবে চিনতে পারেন এবং তাকে গুলি করেন। তার ছোড়া গুলিতে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের মাথার খুলি ফেটে যায় এবং নিহত হন তিনি।
এ দিকে, ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘নো ইজি ডে’ বইয়ে নেভি সিলের আরেক সদস্য বিসোন্যাট দাবি করেছিলেন, একজন পয়েন্টম্যানের গুলিতে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন। তবে বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ও’ নিলের দাবির সরাসরি বিরোধিতা করেননি বিসোন্যাট। সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, দুজন মানুষ পৃথক দুই কারণে পৃথক দুটি কাহিনী বলছেন। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বই নেভি সিলে তার কর্মজীবন নিয়ে লেখা ‘নো হিরো’র প্রকাশনার আগে সিবিএস নিউজ ম্যাগাজিনে বিসোন্যাটের সাক্ষাত্কার দেয়ার কথা ছিল। যদিও প্রথম বইয়ে ওসামা হত্যার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁসের জন্য এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছেন তিনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ও’ নিলের দাবি অস্বীকার করেনি, আবার সত্যি বলে নিশ্চিতও করেনি। তবে গত সপ্তাহে বিশেষ অভিযানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে নেভি সিলের প্রত্যেক সদস্যকে কোনো অভিযানের ব্যাপারে নীরবতা মেনে চলার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, এ সব অভিযানের ব্যাপারে তাদের জনসম্মুখে কৃতিত্ব নেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
