ছায়ানটে শাস্ত্রীয় নৃত্যের মুগ্ধতা

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৪, ১৪:১৭

নূপুর নিক্বণে নৃত্যের ছন্দে মুখর হয়ে উঠেছিল ছায়ানটের প্রধান মিলনায়তন। শাস্ত্রীয় নৃত্যের ছন্দোবদ্ধ উপস্থাপনা উপভোগ করলেন দর্শকরা। গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী নৃত্যোত্সব। গতকাল প্রথমদিনে মনিপুরী, ভরতনাট্যম, গৌড়ীয় ও কত্থক নৃত্য পরিবেশন করেন বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীরা।
নৃত্য সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পমাধ্যম। যা শরীরীশৈলীর মাধ্যমে বক্তব্য তুলে ধরা হয়। উপমহাদেশীয় নৃত্যধারার সেই প্রাচীন নৃত্যরূপকেই এখনকার শিল্পীরা পরিবেশন করলেন আধুনিক শৈলীর স্পর্শে। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহ-সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী। শুরুতেই মনিপুরী নৃত্য পরিবেশন করে ছায়ানটের শিল্পীরা। এরপর কলকাতার বিম্বাবতী দেবী, বাংলাদেশের সুইটি দাশ, সোনিয়া রশিদ মনিপুরী নৃত্য পরিবেশন করেন। ভরতনাট্যম পরিবেশন করেন সুদেষ্ণা স্বয়ম্প্রভা তাথৈ, পূূজা সেনগুপ্ত, জেসিকা শারমিন রহমান, অর্পিতা সোম, অমিত চৌধুরী ও সৃষ্টি কালচারাল সেন্টারের শিল্পীরা। গৌড়ীয় নৃত্য র্যাচেল প্রিয়াংকা ও কত্থক পরিবেশন করেন  তাবাস্সুম আহমেদ ও কত্থক নৃত্যসম্প্রদায়ের শিল্পীরা।
অটিস্টিক শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে প্রদর্শনী শুরু
শিশুদের মনোরাজ্যের অজানা কথা প্রকাশ করার এক ভিন্নধর্মী মাধ্যম রংতুলি। ওরা ছবি এঁকে প্রকাশ করে না বলা কথা, ভালো লাগার নানা অনুভূতি। শিশুদের সেই অনুভূতির প্রকাশ দেখা গেল গতকাল শুক্রবার। ‘রং তুলিতে অজানা কথা’ শীর্ষক চিত্রপ্রদর্শনীতে কেউ এঁকেছে উড়ন্ত ঘুড়ি, কেউ নদীর ধারে কাশবন। আবার কেউ এঁকেছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। প্রতিটি ছবিতেই যেন প্রকাশ পেল শিশু মনোরাজ্যের অজানা কথা। আর যেসব শিশু এসব ছবি এঁকেছে ওরা প্রত্যেকেই অটিস্টিক শিশু।
অটিস্টিক শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিয়ে তাদের সমাজের মূল ধারায় আনার লক্ষ্যে অটিস্টিক শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে রাজধানীতে সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। গতকাল বিকালে ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ঢাকার আটটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ১২০টি ছবি স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে। আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার অধ্যাপক ও শিল্পী আবুল বারক আলভী প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অটিস্টিক শিশুদের ছবি মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণের চোখে এরা স্বাভাবিক নয়। কিন্তু আর দশটা স্বাভাবিক বাচ্চার মতোই এদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, সবকিছু খুঁটিয়ে দেখার প্রবণতা, আর কল্পনাশক্তি অসাধারণ। ফলে ওরা সুযোগ পেলে অবশ্যই ভালো করবে। দেশ ও জাতির সম্পদে পরিণত হবে।’
অটিস্টিক শিশুদের মেধা বিকাশ ও অটিজম বিষয়ে সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রদর্শনী আয়োজন করেছে ছাত্রসংগঠন হ্যান্স। গতকাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হ্যান্সের চেয়ারম্যান মীর সোহরাবুল হোসেন ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের কোম্পানি অ্যাক্টিভেশন ম্যানেজার আব্দুল্লাহ রাশেদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনীর সবছবি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিটি ছবির ন্যূনতম দাম ধরা হয়েছে তিন হাজার টাকা। ছবি বিক্রির অর্থ প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া শিশুদের হাতে তুলে দেয়া হবে।
g ইত্তেফাক রিপোর্ট