পাওনার দাবিতে বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৪, ০০:৪৯

রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ের এল এ ফ্যাশন নামের একটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা পাওনার দাবিতে গতকাল শনিবার বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও করেন। এ সময় দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ভবনের মূল ফটক আটকে বিক্ষোভ করেন ২ শতাধিক শ্রমিক। পরে বিজিএমইএ নেতাদের আশ্বাসে তারা ঘেরাও কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন।

গার্মেন্টসটির অপারেটর আল আমিন ইত্তেফাককে জানান, কারখানাটিতে প্রায় সাড়ে ৩শ’ শ্রমিক কাজ করেন। গত ঈদের আগে ৪ অক্টোবর তাদের কিছু পাওনা দিয়ে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মালিকপক্ষ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেন। ১৯ অক্টোবর শ্রমিকরা কাজ করতে এসে দেখেন কারখানার গেটে তালা। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কারখানায় কোন মেশিনপত্র নেই। এরপর থেকে তারা পাওনার দাবিতে আন্দোলন করছেন। দুই মাসের বকেয়া বেতন ছাড়াও শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিটের পাওনাদি বকেয়া রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কারখানাটি বন্ধ হওয়ায় আমরা খুবই অর্থকষ্টে আছি।’
শ্রমিকদের এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক জোট। সংগঠনটির সভাপতি হারুন অর রশিদ ইত্তেফাককে বলেন, বন্ধ হওয়া এ কারখানায় এমন শ্রমিকও আছেন যারা একনাগাড়ে ২০ বছর কাজ করেছেন। শ্রম আইন অনুযায়ী এসব শ্রমিকের সার্ভিস বেনিফিট প্রাপ্য। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না হলে ১৭ নভেম্বর কারখানাটির মূল প্রতিষ্ঠান ‘র্যামন’ এর প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। এরপর প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনেও বসবেন তারা।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটির মালিকের নাম বেনজির আহমেদ। তিনি এর আগে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এবং ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে গতকাল মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

তবে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি ইত্তেফাককে বলেন, এল এ ফ্যাশনের শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে বিজিএমইএ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে।