বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পঞ্চকরন ইউনিয়নের কুমারিয়াজোলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী খান স্ব-পরিবারের অবরুদ্ধ হয়ে মানবতার জীবন যাপন করছেন। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী খান ৫নং চক কুমারিয়াজোলা মৌজায় তার চাচাতো ভাই জয়নাল খানের নিকট থেকে বায়না চুক্তি মোতাবেক .৪৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে ১৯৯৪ সাল থেকে বসতবাড়ি করে ভোগ দখল করে আসছেন তিনি।
সম্প্রতি উক্ত বসতবাড়ি থেকে তাকে উচ্ছেদের জন্য তারই আপন ছোট ভাই আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুল হক .২০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক হয়রানি করে যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারকে। সর্বশেষ ৫-৬ মাস ধরে তার বাড়ি থেকে বের হবার চলার পথটুকুও জালের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। ইতোপূর্বে আহম্মদ খানের বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক মামলাও দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি পুন: তদন্তের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আরো পড়ুন: পুরো দ্বীপে একাই বসবাস ৮১ বছরের বৃদ্ধার
সরেজমিনে মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী খানের বাড়িতে গেলে সংবাদ কর্মীদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহিষচরনী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম খান (৭২), বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হাওলাদার (৭৩) ও মোশারেফ হোসেন হাওলাদার(৭৫)।
তারা বলেন, জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করে পাকসেনাদের হাত থেকে দেশ স্বাধীন করে এখন অপরাধীদের কাছে পরাধীন হয়েছি! এ সব কি হচ্ছে। এগুলো দেখার কি কোন লোক নেই? এ রকম অনেক প্রশ্নের উত্তর চেয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধারা সংবাদ কর্মীদের কাছে।
মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী খানের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে চার জনের সংসার। স্ত্রী পারুল বেগম (৫৫) বাড়িতেই থাকেন। বড় ছেলে সোহেল রেজা (৩৫) ঢাকায় গামেন্টেসে চাকরি করেন। ছোট ছেলে হিজবুল বাহার জুয়েল (২৯) মার্টাস শেষ করে ঢাকায় একটি প্রাইভেট ফার্মে কর্মরত। দুই ছেলেই ঢাকায় থাকায় জনবলের অভাবে মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী খান থানা পুলিশের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন ন্যায় বিচারের আশায়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থথ পরিদর্শন করে উভয়পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হওয়ার জন্য বলেছে।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি নিয়ে ২ ভাইয়ের মধ্যে আদালতে মামলা রয়েছে। সে কারনে স্থানীয়ভাবে কোন পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি।’
আরো পড়ুন: ভেঙে পড়া ব্রিজের পুরাতন পিলারে তৈরি হচ্ছে ৩ কোটি টাকার নতুন ব্রিজ
এ সম্পর্কে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সদস্য সচিব শাহআলম বাবুল বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী খানের পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে অবরুদ্ধ। এটা আমাদের সবার জন্য লজ্জাকর।’
মজিবুর রহমান খান জানান, ‘তিনি কারো জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করেননি। ক্রয় করা জমিই তিনি ঘেরাবেড়া দিয়ে ভোগ দখল করেছেন। এ জমি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী খান অবরুদ্ধ আছেন এমন কোন খবর বা অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। আদালতে যদি মামলা থেকে থাকে তবে বিষয়টি আদালতকেই অবহিত করতে হবে।’
ইত্তেফাক/বিএএফ
