চট্টলাপাড়ার বাঁশ-বেতের শিল্প সামগ্রী

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৪, ১৪:০৮

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদের একটি এলাকার নাম চট্টলাপাড়া। এ পাড়ায় সহস্রাধিক লোকের বসবাস। এদের  জীবন চলে বাঁশ-বেত শিল্প সামগ্রী তৈরি করে। এলাকার সব বয়সী নারী-পুরুষ বাঁশ ও বেত দিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে বানায় বিভিন্ন ডিজাইনের শিল্প সামগ্রী। পাশাপাশি শিশুরাও এ সামগ্রী বানায়। ঘর-গৃহস্থালীসহ নিত্য ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে থাকে তারা। এর আয় দিয়েই কোনো রকমে চলে যায় তাদের সংসার।
জানা গেছে, ওই এলাকার প্রায় ১৪০টি পরিবার সরাসরি উক্ত শিল্পের সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে, এসব পরিবারের ১০-১৫ বছর বয়সী শিশুরা এ শিল্প সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সব সময়। এখানকার নারী-পুরুষরা তাদের পূর্ব পুরুষ থেকে প্রাপ্ত পেশাটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত জীবন-যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছেন। কোন ধরণের প্রশিক্ষণ ছাড়াই তারা বংশ পরস্পরায় এ সামগ্রী তৈরি করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে তারা বাঁশ-বেত সংগ্রহ করে। ছোটখাটো সামান্য হাতিয়ারের মাধ্যমে পাটি, চাটাই, তলি ও বড় বড় ঝুঁড়িসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করেন। দূর-দূরান্ত থেকেও পাইকারী বিক্রেতারা এলাকায় এসে এসব শিল্প-সামগ্রী কিনে নিয়ে যায়। এখানকার বাঁশ-বেত শিল্প চলে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য এলাকায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উক্ত এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা বাড়ির উঠানে কিংবা খোলা জায়গায় একযোগে নানা ডিজাইনের বাঁশ-বেতের সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন। আলাপ হয় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল হামিদ, আনিফুল ইসলাম, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিদুয়ান এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিম ও তানজিবের সাথে। তারা জানায় স্কুল বন্ধের সময় কিংবা স্কুল ছুটির পর তারা প্রতিনিয়ত মা-বাবাকে এ কাজে সহযোগিতা করে। এ শিল্পে জড়িত কারিগররা জানান, তারা বিভিন্ন ব্যাংক ও দাদন ব্যবসায়ী থেকে ঋণ নিয়ে এ শিল্প সামগ্রী তৈরি করছেন। পূর্ব পুরুষের এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য তারা তাদের ছেলে-মেয়েকে এ শিল্পকর্ম শিখিয়ে থাকেন। তারা তেমন কোন সরকারি সহযোগিতা পান না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন জানান, চট্টলাপাড়া বাঁশ-বেত শিল্প সামগ্রী তৈরির জন্য ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। যুগ যুগ ধরে এলাকায় এ শিল্প সামগ্রী তৈরি হয়ে আছে। সরকারি সহযোগিতা এ শিল্পের আরো প্রসার ঘটবে বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিজনুর রহমান জানান, বাঁশ-বেত শিল্প গ্রামীণ ঐতিহ্য। একেকটা শিল্প সামগ্রী তৈরির মধ্যে লুকিয়ে আছে। একেকটা পরিবারের কাহিনী, পরিবেশ ও তাদের জীবনগাঁথা। এলাকায় এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা কিছু করণীয় তা করবেন বলে তিনি জানান।